খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ই জুন ২০২৬, ৪:৫৪ পিএম

দক্ষিণী চলচ্চিত্র শিল্পের অন্যতম শীর্ষ জনপ্রিয় অভিনেত্রী সামান্থা রুথ প্রভু সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের ক্যারিয়ারের অতীত অধ্যায়, তারকাখ্যাতির মোহ এবং ব্যক্তিগত উপলব্ধি নিয়ে অকপট বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে রাতারাতি বিপুল সাফল্য পাওয়ার পর তিনি একসময় ‘খ্যাতির নেশায় আসক্ত’ হয়ে পড়েছিলেন এবং তার মধ্যে এক ধরনের ‘অহংকার’ বাসা বেঁধেছিল। তবে পরবর্তী সময়ে শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণে বাধ্যতামূলক বিরতিতে যাওয়ার পর তার সেই ভুল ভেঙে যায় এবং জীবন দর্শনে আমূল পরিবর্তন আসে।
Table of Contents
সামান্থা রুথ প্রভু জানান, একটি ছোট শহর থেকে এসে হঠাৎ করে চলচ্চিত্র জগতে বিপুল খ্যাতি, মানুষের সীমাহীন ভালোবাসা এবং চারপাশের অবিরাম আলোচনা পাওয়া তার জন্য ছিল অত্যন্ত রোমাঞ্চকর এবং অভাবনীয়। দর্শকরা প্রেক্ষাগৃহে তার অভিনীত সিনেমা দেখতেন, উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতেন এবং তার নাম ধরে স্লোগান দিতেন। এই পরিস্থিতি তাকে খ্যাতির মোহের দিকে ধাবিত করে।
ক্যারিয়ারের একটি সুবর্ণ সময়ে সামান্থা বছরে গড়ে পাঁচটি পর্যন্ত চলচ্চিত্রে অভিনয় করতেন এবং তার প্রতিটি সিনেমাই বক্স অফিসে ব্যবসায়িক সাফল্য লাভ করে ‘সুপার হিট’ তকমা পেয়েছিল। এই অভাবনীয় সাফল্যের কারণে চলচ্চিত্র নির্মাতারা তাকে ব্যবসায়িক দিক থেকে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য বা ‘সোনার ডিম পাড়া হাঁস’ হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করেন। এই ধারাবাহিক সাফল্য সামান্থার মনে এমন একটি ধারণার জন্ম দিয়েছিল যে, এই সাফল্যের জোয়ার এবং খ্যাতি হয়তো কখনোই শেষ হবে না। তবে এই জনপ্রিয়তার কারণে তাকে ক্যারিয়ারে প্রতিনিয়ত এক ধরনের বাড়তি মানসিক চাপও বহন করতে হতো।
কয়েক বছর আগে শারীরিক অসুস্থতার কারণে সামান্থা রুথ প্রভু অভিনয় থেকে দীর্ঘ এবং বাধ্যতামূলক বিরতি নিতে বাধ্য হন। এই বিরতিই তার পূর্ববর্তী চিন্তাধারাকে সম্পূর্ণ বদলে দেয়। সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন, একজন সফল অভিনয়শিল্পী হিসেবে তিনি এতটাই অহংকারী হয়ে উঠেছিলেন যে, মনে করতেন এই গৌরবময় পথের কোনো সমাপ্তি নেই এবং তিনি নিজেও সেই সমাপ্তি দেখতে চাননি। কিন্তু অসুস্থতার দিনগুলোতে একাকীত্ব ও বিরতি তাকে বাস্তবতার মুখোমুখি করে এবং তার ভেতরের ভুল ধারণাগুলো ভেঙে দেয়। এই ধাক্কার পর তিনি নিজের জীবন ও যাপনে ব্যাপক পরিবর্তন আনেন এবং বর্তমানে সেই পরিবর্তিত ও বাস্তবসম্মত চিন্তাভাবনা নিয়েই জীবন পরিচালনা করছেন।
সামান্থা রুথ প্রভুর ক্যারিয়ারের অতীত পরিস্থিতি, মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন এবং বর্তমান ও আসন্ন প্রকল্পসমূহের একটি কাঠামোগত বিবরণ নিচে টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয়ের বিবরণ | অতীত অধ্যায় ও খ্যাতির সময়কাল | বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা |
| চলচ্চিত্রের সংখ্যা ও সাফল্য | বছরে প্রায় ৫টি সিনেমা; যার প্রতিটিই বক্স অফিসে ‘সুপার হিট’ হতো। | অসুস্থতার পর থেকে কাজের সংখ্যা কমিয়ে চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন এনেছেন। |
| মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা | খ্যাতির নেশায় আসক্তি এবং সাফল্য চিরস্থায়ী হওয়ার অহংকার। | বাধ্যতামূলক বিরতির পর ভুল উপলব্ধি এবং অহংকারমুক্ত জীবন দর্শন। |
| চলচ্চিত্র নির্মাতাদের দৃষ্টিভঙ্গি | সামান্থাকে ব্যবসায়িক সাফল্যের প্রতীক বা ‘সোনার ডিম পাড়া হাঁস’ মনে করা হতো। | অভিনেত্রী থেকে এখন তিনি নিজেই চলচ্চিত্র প্রযোজকের ভূমিকায় অবতীর্ণ। |
| আসন্ন চলচ্চিত্র ও মুক্তির তারিখ | প্রযোজক ও অভিনেত্রী হিসেবে নতুন চলচ্চিত্র ‘মা ইন্তি বাঙ্গারাম’। | আগামী ১৯ জুন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার জন্য নির্ধারিত রয়েছে। |
| আসন্ন ওটিটি (OTT) প্রকল্প | প্রযোজকদের আস্থার প্রতীক হিসেবে বড় পর্দায় ব্যস্ততা। | নির্মাতা জুটি রাজ ও ডিকের নতুন ওয়েব সিরিজ ‘রক্ত ব্রহ্মাণ্ড’-এ প্রধান চরিত্রে অভিনয়। |
অসুস্থতার ধাক্কা কাটিয়ে সামান্থা রুথ প্রভু পুনরায় অভিনয়ে এবং এবার একই সাথে চলচ্চিত্র প্রযোজনায় সক্রিয় হয়েছেন। আগামী ১৯ জুন মুক্তি পেতে যাচ্ছে তার অভিনয়ে নতুন চলচ্চিত্র ‘মা ইন্তি বাঙ্গারাম’ (Maa Inti Bangaram)। এই চলচ্চিত্রটির বিশেষত্ব হলো, এটি অভিনয়ের পাশাপাশি সামান্থা নিজেই প্রযোজনা করছেন। এর বাইরেও ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জন্য ভারতের জনপ্রিয় নির্মাতা জুটি রাজ ও ডিকের (Raj & DK) পরিচালনায় নতুন একটি ওয়েব সিরিজ ‘রক্ত ব্রহ্মাণ্ড’ (Rakta Brahmand)-এ অন্যতম প্রধান চরিত্রে দেখা যাবে এই অভিনেত্রীকে। অতীতের অহংকার ও মানসিক চাপ পেছনে ফেলে সামান্থা এখন সম্পূর্ণ নতুন এক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে পেশাদার জীবনে কাজ করে যাচ্ছেন।
মন্তব্য