রংপুরে কথিত বিষাক্ত মদ্যপানে তিনজনের মৃত্যু

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় মদ্যপানের পর তিনজনের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় আরও দুই ব্যক্তি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

সোমবার (১ জুন) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদ হোসেন।

নিহতরা হলেন উপজেলার কাফ্রিখাল ইউনিয়নের সাতভেন্টি এনায়েতপুর গ্রামের মৃত তমিজ উদ্দিনের ছেলে ছাত্তার মিয়া (৫০), বুজরুক ঝালই এলাকার মৃত মতিয়ার মিয়ার ছেলে হুজুর আলী (৪৫) এবং সংগ্রামপুর বেলতলা এলাকার মৃত কফুর উদ্দিনের ছেলে সাজু মিয়া (৫৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার দিবাগত রাতে বালারহাট বাজার এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি একসঙ্গে মদ্যপান করেন। পরে তারা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যান। কিছু সময় পর তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। প্রথমে সাধারণ অসুস্থতা মনে হলেও পরে পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে ওঠে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মদ্যপানের পর আক্রান্তদের মধ্যে বমি, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট এবং অচেতন হয়ে পড়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে স্বজনরা তাদের হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। তবে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই ছাত্তার মিয়া ও সাজু মিয়ার মৃত্যু হয়। অপরদিকে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান হুজুর আলী।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তারা যে মদ পান করেছিলেন তাতে বিষাক্ত বা ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান মিশ্রিত থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি বা ফরেনসিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি। ফলে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

একই ঘটনায় অসুস্থ আরও দুই ব্যক্তি বর্তমানে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি, স্থানীয়দের দাবি তারা এখনও পুরোপুরি আশঙ্কামুক্ত নন।

নিহত ও আহতদের তথ্য

বিষয়তথ্য
ঘটনার স্থানবালারহাট বাজার এলাকা, মিঠাপুকুর, রংপুর
মৃত্যুর সংখ্যা৩ জন
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন২ জন
প্রথম দুই নিহতছাত্তার মিয়া (৫০), সাজু মিয়া (৫৫)
হাসপাতালে মারা যানহুজুর আলী (৪৫)
তদন্তকারী সংস্থামিঠাপুকুর থানা পুলিশ

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. মাইদুল ইসলাম বলেন, তারা মদ্যপানের কারণেই মারা গেছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। পাশাপাশি তিনি শুনেছেন, ময়নাতদন্ত এড়াতে পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি গোপন করার চেষ্টা চলছে। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার খবর পেয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং মিঠাপুকুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছেন।

মিঠাপুকুর থানার ওসি এরশাদ হোসেন জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে পুলিশ অবগত রয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং কথিত বিষাক্ত মদের উৎস শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান।

এদিকে ঘটনাটি এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। তবে প্রশাসন বলছে, তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার আগে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হবে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মৃত্যুর কারণ নির্ণয়, সম্ভাব্য বিষাক্ত উপাদানের উপস্থিতি যাচাই এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার লক্ষ্যে তথ্য সংগ্রহ অব্যাহত রেখেছে।