খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ই মে ২০২৬, ৪:৩২ পিএম

মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন ‘দাওলাতুল ইসলাম’ তথা নিউ জেএমবির একজন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন চাকরিচ্যুত সদস্য বলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
Table of Contents
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন শুক্রবার (১৬ মে, ২০২৬) গণমাধ্যমকে এই অভিযানের বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেন। তিনি জানান, সিটিটিসির ইনভেস্টিগেশন বিভাগের একটি চৌকস দল বৃহস্পতিবার (১৫ মে) দিবাগত রাত ১টা ৫০ মিনিটে মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা থানাধীন ৫ নম্বর শাহজাদপুর ইউনিয়নের ইসলামনগর এলাকায় এই ঝটিকা অভিযান চালায়। অত্যন্ত গোপনীয়তা ও সতর্কতার সাথে পরিচালিত এই অভিযানে নিষিদ্ধ সংগঠনের ওই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি পূর্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন, তবে শৃঙ্খলাভঙ্গ বা অন্য কোনো কারণে তিনি সেখান থেকে চাকরিচ্যুত হন। সিটিটিসি ইউনিটের প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, এই ব্যক্তি উগ্রবাদী আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন দাওলাতুল ইসলাম নিউ জেএমবির কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। তিনি মূলত ডিএমপির শেরেবাংলা নগর থানার একটি নিয়মিত মামলার সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে দীর্ঘ সময় ধরে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজরদারিতে ছিলেন।
নিচে এই বিশেষ অভিযানের প্রধান তথ্যসমূহ সারণির মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| ক্রমিক | তথ্যের শিরোনাম | বিবরণ |
| ১ | গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির সংগঠন | দাওলাতুল ইসলাম (নিউ জেএমবি) |
| ২ | পেশাগত পরিচয় (সাবেক) | চাকরিচ্যুত সেনা সদস্য |
| ৩ | গ্রেপ্তারের স্থান | ইসলামনগর, ৫ নম্বর শাহজাদপুর ইউনিয়ন, বড়লেখা |
| ৪ | গ্রেপ্তারের তারিখ ও সময় | ১৫ মে ২০২৬, রাত ১টা ৫০ মিনিট |
| ৫ | সংশ্লিষ্ট থানা ও মামলা | শেরেবাংলা নগর থানা, ঢাকা (সন্দিগ্ধ আসামি) |
| ৬ | অভিযান পরিচালনাকারী ইউনিট | সিটিটিসি, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ |
গ্রেপ্তারের সময় ওই ব্যক্তির কাছ থেকে কোনো সাংগঠনিক নথিপত্র বা উগ্রবাদী সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে কি না, তা অধিকতর তদন্তের স্বার্থে এখনও প্রকাশ করা হয়নি। উপ-পুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন সিটিটিসির উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, আসামিকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছে এবং শেরেবাংলা নগর থানায় দায়ের করা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। তাঁর সাথে অন্য কোনো জঙ্গি গোষ্ঠী বা সদস্যের যোগাযোগ ছিল কি না, তা নিশ্চিত করতে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে মনে করছে পুলিশ।
নিষিদ্ধ উগ্রবাদী সংগঠনের সাথে সেনাবাহিনীর একজন সাবেক সদস্যের সংশ্লিষ্টতা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সংগঠনের অন্যান্য পলাতক সদস্যদের অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা করছে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট। বড়লেখা এলাকায় এই গ্রেপ্তারের পর স্থানীয় পর্যায়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং সীমান্তে কোনো ধরনের সন্দেহভাজন আনাগোনা রয়েছে কি না, সে বিষয়েও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মন্তব্য