নীলফামারীর খামারগুলোতে কোরবানির পশুর ব্যাপক জোগান

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে নীলফামারী জেলায় কোরবানির পশুর পর্যাপ্ত জোগান নিশ্চিত হয়েছে। জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এবার জেলায় চাহিদার তুলনায় ৫০ হাজারেরও বেশি গবাদিপশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। সুস্থ ও সবল পশু বাজারজাতকরণে খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা প্রদানের মাধ্যমে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। ইতোমধ্যে জেলার পশুর হাটগুলোতে খামারি, ক্রেতা এবং পাইকারি ব্যবসায়ীদের কর্মতৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

পশুর জোগান ও চাহিদার পরিসংখ্যান

নীলফামারী জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের সূত্র মতে, চলতি বছর জেলায় বাণিজ্যিক ও পারিবারিক পর্যায়ে পরিচালিত মোট ৩৪ হাজার ৮০৩টি খামারে ২ লাখ ৮২ হাজার ৮৫০টি কোরবানিযোগ্য গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে। বিপরীতে, জেলায় পশুর মোট চাহিদা নিরূপণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৬৭৬টি। ফলে জেলায় প্রায় ৫০ হাজার ১৭৪টি পশু অতিরিক্ত থাকবে, যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যান্য জেলাগুলোতে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

গবাদিপশুর বিস্তারিত পরিসংখ্যান ও খামারিদের বিবরণ

নীলফামারী জেলার পশুর জোগান এবং উপজেলাভিত্তিক খামারিদের সংখ্যা নিচে সারণির মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:

সারণি ১: কোরবানিযোগ্য পশুর শ্রেণিভিত্তিক সংখ্যা

পশুর ধরনসংখ্যা (টি)
ষাঁড়৫১,৮৮১
বলদ৪,১৬৪
গাভি২৫,৮৬৫
মহিষ৯৪
ছাগল১,৮৫,৩০৯
ভেড়া১৫,৫৩২
মোট পশু২,৮২,৮৫০

সারণি ২: উপজেলাভিত্তিক খামারিদের সংখ্যা

উপজেলার নামখামারির সংখ্যা
নীলফামারী সদর৫,৮৫০
সৈয়দপুর৪,২৭৫
ডোমার৪,৭০২
ডিমলা৪,৮৮৯
জলঢাকা৬,১২৩
কিশোরগঞ্জ৫,১৩৩
জেলায় মোট খামারি৩০,৯৭২

খামারিদের প্রস্তুতি ও বাজার পরিস্থিতি

জেলার খামারিরা জানিয়েছেন, এবারের কোরবানির বাজারের জন্য তাঁরা মূলত দেশি জাতের গরু ও ছাগলের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। পশুকে মোটাতাজা করার ক্ষেত্রে কোনো ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার না করে প্রাকৃতিক খাদ্যের ওপর নির্ভর করা হচ্ছে। খাদ্যের তালিকায় রয়েছে কাঁচা ঘাস, খৈল, ধানের কুঁড়া, গমের ভুষি এবং ভুট্টা। তবে পশুখাদ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে লালন-পালন ব্যয় গত বছরের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে বলে খামারিরা উল্লেখ করেছেন। তাঁরা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় গরু প্রবেশ রোধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় খামার মালিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, অনেকেই আধুনিক পদ্ধতিতে ওজন মেপে পশু বিক্রি করছেন, যা ক্রেতাদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। অনেক খামারে পশু আগাম বুকিং হয়ে গেছে। পারিবারিক পর্যায়ে যারা পশু লালন-পালন করেন, তাঁরাও হাটে তোলার অপেক্ষায় আছেন। পাইকারি ব্যবসায়ীরা খামারিদের বাড়িতে গিয়ে সরাসরি যোগাযোগ করছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত, বিশেষ করে চট্টগ্রাম থেকে আসা ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যে ট্রাকযোগে পশু সংগ্রহ শুরু করেছেন। তবে পাইকারি ক্রেতাদের অভিযোগ, হাটগুলোতে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাব রয়েছে।

প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পর্যবেক্ষণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রাশেদুল ইসলাম জানান যে, খামারিরা এখন ক্ষতিকর ইনজেকশন বা ওষুধ ছাড়াই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পশু পালন করছেন। প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে নিয়মিত ভ্যাকসিন ও ভিটামিন সরবরাহ করা হচ্ছে। কোরবানির হাটগুলোতে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বিশেষ চিকিৎসক দল মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া হাটে জাল নোট শনাক্তকরণ এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অসুস্থ পশু হাটে বিক্রি রোধে এবং তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য ভ্রাম্যমাণ দল সক্রিয় থাকবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।