ফেসবুকে সরকারের বিরুদ্ধে পোস্টে বিসিএস শিক্ষাকর্মীকে শোকজ

ফেসবুকে সরকার, মন্ত্রী, সচিবসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আপত্তিকর, অশালীন ও বিতর্কিত মন্তব্য সংক্রান্ত অভিযোগে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের এক কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অভিযুক্ত কর্মকর্তা আরিফ মোহাম্মদ ফরহাদ, যিনি ঢাকা কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত।

ঘটনার সূত্রপাত জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমিতে (নায়েম) চলমান ২০৭তম ফাউন্ডেশন ট্রেনিং কোর্স চলাকালে। প্রশিক্ষণ চলাকালীন সময়ে তিনি গত ৯ মে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে একটি পোস্ট শেয়ার করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ওই পোস্টে সরকার, মন্ত্রী, সচিব এবং অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে আপত্তিকর, অশোভন ও বিতর্কিত মন্তব্য রয়েছে বলে নায়েমের নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

রবিবার (১০ মে) নায়েমের ওয়েবসাইটে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নোটিশ প্রকাশ করা হয়। পরবর্তীতে অভিযুক্ত কর্মকর্তার কাছে শোকজ নোটিশটি পাঠানো হয়। নোটিশে বলা হয়েছে, একজন সরকারি কর্মচারীর কাছ থেকে প্রত্যাশিত শৃঙ্খলা, পেশাগত নিরপেক্ষতা এবং প্রশাসনিক সৌজন্যের সঙ্গে এ ধরনের মন্তব্য সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ধরনের মন্তব্য সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর প্রাসঙ্গিক বিধান এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার সংক্রান্ত নির্দেশনার পরিপন্থী। এতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের মতে, সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট আচরণবিধি অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। এ ধরনের বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করলে তা প্রশাসনিক ও বিভাগীয় ব্যবস্থার আওতায় পড়ে।

শোকজ নোটিশে আরিফ মোহাম্মদ ফরহাদকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক প্রশাসনিক ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা প্রদান করতে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে একতরফাভাবে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।

ঘটনাটি প্রশাসনিক মহলে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে, কারণ এটি সরকারি কর্মচারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নীতিমালা ও আচরণবিধির সঙ্গে সম্পর্কিত। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পর্যালোচনা করছে এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত নীতিমালা অনুযায়ী নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।