শেরপুরের নকলা পৌর এলাকায় পিকআপভ্যানের ভুসির বস্তার মধ্যে লুকিয়ে রাখা ১০৮ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় পিকআপের চালকসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। সোমবার (১১ মে) বিকেল ৪টার দিকে নকলা পৌর এলাকার গড়েগাঁও মোড়ে অভিযান চালিয়ে এসব মদ উদ্ধার করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন মো. রুহুল আমিন (৩৭), মো. নুর মোহাম্মদ (২৮) এবং শফিকুল ইসলাম (১৯)। তাদের মধ্যে মো. রুহুল আমিন শ্রীবর্দী উপজেলার করুয়া গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে, নুর মোহাম্মদ ঝিনাইগাতী উপজেলার আবেদ আলীর ছেলে এবং শফিকুল ইসলাম শ্রীবর্দী উপজেলার করুয়া গ্রামের বিল্লাল হোসেনের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নকলা থানার পুলিশ জানতে পারে যে একটি পিকআপভ্যানে করে ভুসির বস্তার আড়ালে বিদেশি মদের একটি চালান পরিবহন করা হচ্ছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে নকলা পৌরসভার গড়েগাঁও মোড়ে পুলিশ অবস্থান নেয় এবং সন্দেহভাজন পিকআপটি থামিয়ে তল্লাশি চালায়। তল্লাশির সময় ভুসির বস্তার ভেতরে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় ১০৮ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়।
নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রিপন চন্দ্র গোপ জানান, উদ্ধার করা মদের চালানটি শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, এটি ঢাকায় পাঠানোর উদ্দেশ্যে পরিবহন করা হচ্ছিল। পুলিশের অভিযান চলাকালে পিকআপভ্যানের চালকসহ তিনজনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়। একই সঙ্গে জব্দ করা পিকআপভ্যানটি নকলা থানায় হেফাজতে রাখা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, উদ্ধার হওয়া মদ এবং আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে বিস্তারিত যাচাই-বাছাই চলছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নকলা থানায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন শেরপুর জেলার পুলিশ সার্কেল নাসরিন জাহান। তিনি বলেন, জেলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে পুলিশ প্রশাসন সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তার মতে, মাদক চোরাচালান রোধে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ সূত্র আরও জানায়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে সীমান্ত এলাকা ব্যবহার করে এই মদ সংগ্রহ করা হয় এবং তা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল। তবে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সময়মতো অভিযান পরিচালনার ফলে চালানটি আটক করা সম্ভব হয়।
বর্তমানে আটক তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং এ চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
