গোয়ালন্দে এক বছরে ২৯ ট্রান্সফরমার চুরি

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত এক বছরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ২৯টি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব ঘটনায় কৃষক, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ও আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে বোরো ও ইরি ধান চাষের সেচ মৌসুমে ট্রান্সফরমার চুরির কারণে কৃষকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রেই কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। একই সময়ে আবাসিক এলাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন স্থাপনায় বৈদ্যুতিক তার, ফ্যানসহ অন্যান্য সরঞ্জাম চুরির ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে।

গত ৭ মে গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের বাইপাস সড়কের পাশে, ঢাকা–খুলনা মহাসড়কের নিকটে একটি একশ কিলোভোল্ট ক্ষমতার ট্রান্সফরমার চুরি হয়। ট্রান্সফরমারটিতে প্রায় ২০০ কেজি তামার তার ছিল, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় তিন লাখ টাকা। ঘটনাস্থলটি ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের স্থানীয় কার্যালয়ের কাছাকাছি হওয়ায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়।

স্থানীয় দোকানদার মো. নজরুল শেখ জানান, তিনি রাত পর্যন্ত দোকান পরিচালনার পর সকালে গিয়ে দেখেন ট্রান্সফরমারটি খোলা অবস্থায় নিচে পড়ে আছে এবং ভেতরের তামার তার চুরি হয়ে গেছে।

গোয়ালন্দ পল্লী বিদ্যুৎ সাব-জোনাল অফিসের তথ্য অনুযায়ী, তাদের আওতায় গোয়ালন্দ উপজেলার পুরো এলাকা এবং রাজবাড়ী সদর উপজেলার আংশিক কয়েকটি ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্ত। এই অঞ্চলে মোট ১ হাজার ৩০৮টি ট্রান্সফরমার রয়েছে এবং মোট গ্রাহক সংখ্যা ৪১ হাজার ১৪৫ জন।

২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে পঞ্চম মাস পর্যন্ত সময়ে শুধু গোয়ালন্দ উপজেলাতেই ২৮টি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে সেচ কাজে ব্যবহৃত ২২টি, আবাসিক এলাকার ৩টি এবং শিল্প এলাকার ৩টি ট্রান্সফরমার রয়েছে।

নিচের সারণিতে পরিস্থিতির সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো—

বিষয়সংখ্যা
মোট ট্রান্সফরমার (আওতাধীন)১,৩০৮টি
মোট গ্রাহক৪১,১৪৫ জন
চুরি হওয়া ট্রান্সফরমার (এক বছরে)২৯টি
চলতি বছরে চুরি (পঞ্চম মাস পর্যন্ত)২৮টি
সেচ খাতের ট্রান্সফরমার চুরি২২টি
আবাসিক এলাকার ট্রান্সফরমার চুরি৩টি
শিল্প এলাকার ট্রান্সফরমার চুরি৩টি

কৃষক প্লাবন আহমেদ ও মুরাদ হোসেন অভিযোগ করেন, ট্রান্সফরমার চুরি হলেও এর আর্থিক ক্ষতিপূরণ সাধারণ গ্রাহকদেরই বহন করতে হচ্ছে। পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে নির্ধারিত অর্থ জমা দেওয়ার পর নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন করা হয়, ফলে কৃষকদের অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে।

গোয়ালন্দ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. আসাদুজ্জামান জানান, প্রতিটি চুরির ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি ঘটনায় চোর গ্রেপ্তার হওয়ায় মামলা রুজু হয়েছে, বাকি ঘটনাগুলো সাধারণ ডায়েরি হিসেবে নথিভুক্ত রয়েছে।

অন্যদিকে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির আবাসিক প্রকৌশলী মো. তোফাজ্জল হোসেন জানান, সাম্প্রতিক একটি চুরির ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের বিকল্প ফিডারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু রাখা হয়েছে।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার ও মালামাল উদ্ধারে অভিযান চলছে। এছাড়া পূর্বের একটি মামলায় তিনজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।