রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর এলাকায় সংঘটিত একটি দলবদ্ধ ধর্ষণ মামলার অন্যতম আসামি সাইফুল ইসলামকে ১৬ বছর পর গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৩। রোববার দুপুরে গুলশান–১ এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব-৩ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী জানান, গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলামের বাড়ি শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার লং শিবার দীঘির পাড় এলাকায়। তিনি ২০০৯ সালে কামরাঙ্গীরচর থানায় দায়ের হওয়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের একটি মামলার আসামি ছিলেন।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, ২০০৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরী তার বান্ধবীর সঙ্গে কামরাঙ্গীরচরের আশ্রাফাবাদ নৌকা ঘাট এলাকায় বেড়াতে যান। পরে বান্ধবী চলে গেলে সাইফুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা ওই কিশোরীকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক একটি নৌকায় তুলে নেয়। এরপর তারা বুড়িগঙ্গা নদীর মাঝখানে নিয়ে নৌকার মাঝিকে নদীতে ফেলে দেয় এবং ভুক্তভোগীকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীকে একটি বাড়িতে আটকে রাখা হয়। পরে তার পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পেরে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল–এ ভর্তি করেন। চিকিৎসা শেষে ভুক্তভোগী কামরাঙ্গীরচর থানায় মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল–৪ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিউর রহমান মামলার চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
র্যাব জানায়, রায় ঘোষণার পর থেকেই সাইফুল ইসলাম আত্মগোপনে ছিলেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাকে শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
মামলার সংক্ষিপ্ত সময়রেখা
| তারিখ/সময়কাল | ঘটনা |
|---|---|
| ২৬ সেপ্টেম্বর ২০০৯ | কামরাঙ্গীরচর এলাকায় ১৪ বছরের কিশোরীর সঙ্গে অপরাধের ঘটনা সংঘটিত হয় |
| ২০০৯ (পরবর্তী সময়) | ভুক্তভোগী পরিবার মামলা দায়ের করে কামরাঙ্গীরচর থানায় |
| চিকিৎসা পর্ব | ভুক্তভোগীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় |
| ২২ ফেব্রুয়ারি (সাম্প্রতিক রায়) | নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল–৪ চার আসামিকে যাবজ্জীবন সাজা প্রদান করে |
| রোববার (সাম্প্রতিক অভিযান) | গুলশান–১ এলাকা থেকে সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-৩ |
এই মামলার কার্যক্রমে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং পরবর্তী সময়ে গ্রেপ্তার কার্যক্রম সম্পন্ন হয় সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী।
