মেটলাইফ বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অবসরকালীন সঞ্চয় ও সুরক্ষাভিত্তিক জীবনবিমা পণ্য মেটলাইফ বাংলাদেশ-এর ‘লাইফলাইন’ একটি অবসর পরিকল্পনা-নির্ভর বিমাপণ্য, যা ১০ থেকে ২০ বছর মেয়াদে পরিচালিত হয়। এটি মূলত এমন ব্যক্তিদের জন্য তৈরি, যারা কর্মজীবন শেষে নিয়মিত আয়ের নিশ্চয়তা চান এবং একই সঙ্গে জীবনবিমার সুরক্ষা পেতে আগ্রহী।
এই পণ্যের আওতায় ১৮ থেকে ৫৫ বছর বয়সী ব্যক্তি গ্রাহক হতে পারেন। পলিসির সর্বনিম্ন অঙ্ক দেড় লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা যায়। প্রিমিয়াম পরিশোধের সুযোগ মাসিক, ত্রৈমাসিক, ষাণ্মাসিক এবং বার্ষিক ভিত্তিতে রয়েছে। পলিসির মোট জমার বিপরীতে সর্বোচ্চ ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ গ্রহণের সুবিধাও প্রদান করা হয়।
‘লাইফলাইন’ পণ্যের মাধ্যমে গ্রাহক নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত প্রিমিয়াম প্রদান করেন এবং মেয়াদ শেষে বা নির্ধারিত বয়সে পৌঁছানোর পর নিয়মিত মাসিক বা বার্ষিক পেনশন গ্রহণের সুযোগ পান। একই সঙ্গে পলিসি চলাকালীন গ্রাহকের মৃত্যু হলে মনোনীত ব্যক্তি বিমার নির্ধারিত সুবিধা পান। অর্থাৎ সঞ্চয় ও জীবনবিমা সুরক্ষা—উভয়ই এতে অন্তর্ভুক্ত।
পলিসির কাঠামো গ্রাহকের বয়স, মেয়াদ, কাঙ্ক্ষিত পেনশনের পরিমাণ এবং অন্যান্য শর্ত অনুযায়ী প্রিমিয়াম নির্ধারণ করে। অতিরিক্ত সুবিধা হিসেবে হাসপাতাল কেয়ার, ক্রিটিক্যাল ইলনেস কভার, দুর্ঘটনা বিমা এবং প্রিমিয়াম মওকুফ সুবিধা যুক্ত করা যেতে পারে। তবে এসব অতিরিক্ত সুবিধা যুক্ত হলে প্রিমিয়াম বৃদ্ধি পায়। বোনাস নির্ভর করে কোম্পানির আর্থিক পারফরম্যান্সের ওপর।
নিচের টেবিলে ‘লাইফলাইন’ পণ্যের মূল বৈশিষ্ট্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| পণ্য | লাইফলাইন (অবসরভিত্তিক জীবনবিমা) লাইফলাইন |
| বয়সসীমা | ১৮–৫৫ বছর |
| মেয়াদ | ১০–২০ বছর |
| পলিসি অঙ্ক | ১.৫ লাখ থেকে ১০ কোটি টাকা |
| প্রিমিয়াম পরিশোধ | মাসিক, ত্রৈমাসিক, ষাণ্মাসিক, বার্ষিক |
| ঋণ সুবিধা | জমাকৃত অর্থের সর্বোচ্চ ৮৫% পর্যন্ত |
| সুবিধা | পেনশন, জীবনবিমা সুরক্ষা, মনোনীত সুবিধা |
| অতিরিক্ত সুবিধা | হাসপাতাল কেয়ার, ক্রিটিক্যাল কেয়ার, দুর্ঘটনা কভার, প্রিমিয়াম মওকুফ |
দেশে সরকারি চাকরির বাইরে থাকা বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জন্য পেনশন কাঠামো তুলনামূলক সীমিত হওয়ায় বেসরকারি খাতে এ ধরনের বিমাপণ্যের চাহিদা বাড়ছে। সরকার সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু করলেও ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিমা ও সঞ্চয়ভিত্তিক পেনশন পণ্যের ব্যবহার অব্যাহত রয়েছে। ব্যাংকাস্যুরেন্স ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব পণ্যের বিক্রিও সম্প্রসারিত হয়েছে।
তবে গ্রাহকদের মধ্যে কিছু সাধারণ প্রশ্ন দেখা যায়—যেমন দীর্ঘমেয়াদি প্রিমিয়াম পরিশোধের পর প্রত্যাশিত রিটার্ন, বোনাসের স্বচ্ছতা, এবং তুলনামূলকভাবে ব্যাংক ডিপোজিট বা সঞ্চয়পত্রের সঙ্গে পার্থক্য। এখানে উল্লেখযোগ্য যে জীবনবিমার মূল উদ্দেশ্য ঝুঁকি সুরক্ষা, যেখানে ব্যাংক ডিপোজিটের উদ্দেশ্য সরাসরি সঞ্চয় বৃদ্ধি।
পলিসি গ্রহণের আগে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সক্ষমতা, সম্ভাব্য প্রিমিয়াম দায়, পলিসি ভাঙার শর্ত, মৃত্যু সুবিধা এবং মূল্যস্ফীতির প্রভাব বিবেচনা করা প্রয়োজন। সিদ্ধান্ত গ্রহণে কেবল এজেন্টের তথ্যের ওপর নির্ভর না করে লিখিত নথি পর্যালোচনা এবং বিকল্প বিনিয়োগের সঙ্গে তুলনা করা গুরুত্বপূর্ণ।
