খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ই মে ২০২৬, ২:৪৮ পিএম

ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট উপজেলায় ১১ বছর বয়সী এক বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল রবিবার দিবাগত রাত আটটার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে স্থানীয় এলাকা থেকে আটক করা হয়। এর আগে একই দিন বিকেল তিনটার দিকে উপজেলার একটি নির্জন স্থানে এই অপরাধ সংঘটিত হয় বলে জানা গেছে। ঘটনার পর শিশুটির মা বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
স্থানীয় সূত্র এবং পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রবিবার বিকেলে শিশুটি তার বাড়ির পাশে খেলাধুলা করছিল। সেই সময় অভিযুক্ত শাকুল সাংমা (৫০) শিশুটিকে প্রলোভন দেখিয়ে অথবা কৌশলে পার্শ্ববর্তী একটি জঙ্গলে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটিকে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি চলাকালীন স্থানীয় চৌকিদার বক্তার মিয়াসহ আরও কয়েকজন গ্রামবাসী বিষয়টি টের পান এবং ঘটনাস্থলের কাছাকাছি পৌঁছে যান। প্রত্যক্ষদর্শীদের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত শাকুল সাংমা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। এরপর স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে উদ্ধার করে তার বাড়িতে পৌঁছে দেন।
বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় শিশুটি মৌখিকভাবে ঘটনার বর্ণনা দিতে না পারলেও ইশারা-ইঙ্গিতের মাধ্যমে তার বাবা-মায়ের কাছে নির্যাতনের কথা প্রকাশ করে। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং পুলিশকে অবহিত করেন। সংবাদ পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযানে নামে। রাত আটটার দিকে হালুয়াঘাট থানা পুলিশ শাকুল সাংমাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন যে, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সোমবার যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে পাঠানো হবে। শিশুটির শারীরিক পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
ঘটনা ও আইনি তথ্যের সারসংক্ষেপ:
| তথ্যের ক্ষেত্র | বিবরণ |
| ভুক্তভোগী | ১১ বছরের বাকপ্রতিবন্ধী শিশু |
| অভিযুক্ত ব্যক্তি | শাকুল সাংমা (৫০) |
| ঘটনার স্থান | হালুয়াঘাট, ময়মনসিংহ |
| ঘটনার সময় | রবিবার বিকেল ৩টা |
| গ্রেপ্তারের সময় | রবিবার রাত ৮টা |
| মামলার বাদী | শিশুটির মা |
| প্রত্যক্ষদর্শী | চৌকিদার বক্তার মিয়াসহ স্থানীয় জনতা |
ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ এই স্পর্শকাতর অপরাধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করছে। বাকপ্রতিবন্ধী শিশুর সাক্ষ্য গ্রহণ এবং প্রমাণের জন্য বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া হতে পারে। পুলিশ জানায়, ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ দমনে তারা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। শাকুল সাংমার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন। পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, অপরাধীর পালানোর চেষ্টার সময় প্রত্যক্ষদর্শীদের উপস্থিতি এই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে। আদালত আজ সোমবার অভিযুক্তের জামিন শুনানি বা রিমান্ডের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। বর্তমানে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন। তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে খুব দ্রুতই অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া হবে বলে পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ভুক্তভোগী শিশুটিকে প্রয়োজনীয় মানসিক ও আইনি সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ধরণের অপরাধের ক্ষেত্রে সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই তারা প্রতিটি তথ্য গুরুত্বের সাথে যাচাই করছেন।
মন্তব্য