বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন মোড় নেওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রস্তাবের জবাবকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করার পর আন্তর্জাতিক বাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়, যার প্রভাব সরাসরি জ্বালানি বাজারে পড়ে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি বার্তা পাঠায় ইরান। ওই বার্তায় তেহরান তাৎক্ষণিক সংঘাত বন্ধ এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে আর কোনো সামরিক হামলা না হওয়ার নিশ্চয়তা দাবি করে। এই জবাবকে কেন্দ্র করেই নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়।
এর পরপরই এশিয়ার বাজারে তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ দশমিক ২০ মার্কিন ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের দাম প্রায় ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ৩০ ডলারে দাঁড়ায়।
সংঘাত শুরুর পর থেকেই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত ব্যাহত হচ্ছে। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের একটি বড় অংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। চলমান উত্তেজনা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে এই রুটে পরিবহন কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়ায় বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, যা তেলের দামে ধারাবাহিক প্রভাব ফেলছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর যুদ্ধবিরতির চেষ্টা করা হলেও পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্থিতিশীল হয়নি। মাঝেমধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থগিত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটে অবাধ চলাচল নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়।
তেলের বাজারে এই অস্থিরতার মধ্যেও বড় জ্বালানি কোম্পানিগুলোর আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সরবরাহ সংকট ও দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি কোম্পানিগুলোর মুনাফা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বিভিন্ন সময়ের আর্থিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
নিচের সারণিতে সাম্প্রতিক বাজার পরিস্থিতির কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরা হলো—
| সূচক | পরিবর্তন | বর্তমান মূল্য |
|---|---|---|
| ব্রেন্ট ক্রুড | +৩.৮% | ১০৫.২০ ডলার/ব্যারেল |
| ডব্লিউটিআই ক্রুড | +৪% | ৯৯.৩০ ডলার/ব্যারেল |
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় কিছু দেশ তাদের বিকল্প রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র এখন তেলের নিট রপ্তানিকারক হিসেবে অবস্থান করছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশ্ববাজারে এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীলতা নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে বলে বাজার বিশ্লেষকরা পর্যবেক্ষণ করছেন।
> তালাবদ্ধ ঘর থেকে মায়া হরিণ উদ্ধার অভিযান
> ভাঙ্গায় মাদকবিরোধী সভা ঘিরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ
> রায়গঞ্জে রাতে নারীর বাড়ি থেকে ইমাম আটক
> ফয়’স লেকে গ্যাস পাইপে অগ্নিকাণ্ড
> বিশ্বকাপে খেলেও শোকে ভেঙে পড়লেন গাকপো
> গাইবান্ধায় দুই মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে বলাৎকার, অভিযুক্তের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন
> ভাইভা দিতে এসে ছাত্রলীগ নেতা আটক
> বাংলাদেশের ব্যাটিং পরীক্ষা হারারের শুরুতেই
> সুনামগঞ্জে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত যুবক গ্রেপ্তার
> স্মরণ আঁধারের আলোকবর্তিকা শহীদ জননী জাহানারা ইমাম
> কার্বন ক্রেডিট বিক্রি: ২৫ কোটি গাছ রোপণে বাংলাদেশের বিলিয়ন ডলারের আয়ের সম্ভাবনা
> লোকসান সইতে না পেরে সিরাজগঞ্জে অনির্দিষ্টকালের জন্য ডিম বিক্রি বন্ধ
> প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষক সংকটে সরকারের আপাত সমাধান পরিকল্পনা
> কারওয়ান বাজার ক্যামেরা গুজব খণ্ডন
> হাম পরিস্থিতি: শিশু মৃত্যু উদ্বেগ বাড়ছে
> মার্কিন সাহায্য ছাড়া কি রক্ষা পাবে ইসরায়েলের অস্তিত্ব?
> হাসানুল হক ইনুর মামলার রায় আগামী ৩০ জুন
© কপিরাইট ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
মন্তব্য