ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সেপাহিজালা জেলার কমলাসাগর সীমান্ত ফাঁড়ির অধীন নবীনপাড়া ও বঙ্গ বন্ধ এলাকার মধ্যবর্তী সীমান্ত অঞ্চলে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে দুই বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন কলেজ ছাত্র ছিলেন বলে জানা গেছে। ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (৮ মে) গভীর রাতে। সীমান্তের অপর পাশে বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার ধজনগর এলাকা অবস্থিত।
বিএসএফের দাবি অনুযায়ী, নিয়মিত টহলের সময় তাদের সদস্যরা দেখতে পান যে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল সীমান্তের বেড়া অতিক্রম করে পণ্য আদান-প্রদান করছিল। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া সূত্রে জানানো হয়, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় স্থানীয় কিছু ভারতীয় গ্রামবাসীর সহায়তায় চোরাচালান কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল বলে বিএসএফ অভিযোগ করেছে।
ঘটনার সময় বিএসএফের টহলরত সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্দেহভাজনরা তাদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে বলে দাবি করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে এবং নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে বিএসএফ সদস্যরা গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ হন।
পরে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে আহত অবস্থায় নবীন হোসেন (৪০) এবং মো. মোরসালিন (২০) নামের দুই ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়। তাদের দ্রুত ভারতের বিশালগড় হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
ভারতীয় পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর আগে দুই ব্যক্তি নিজেদের বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে পরিচয় দেন এবং চোরাচালান কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টিও স্বীকার করেছেন বলে পুলিশের দাবি।
শনিবার ময়নাতদন্ত শেষে নিহতদের মরদেহ বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়। সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় পর্যায়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্ত এলাকায় এর আগেও একাধিকবার প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। তাদের মতে, সীমান্তে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।
নিচে ঘটনাটির প্রধান তথ্যগুলো সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ঘটনা | সীমান্তে গুলিবর্ষণে দুই বাংলাদেশি নিহত |
| স্থান | ত্রিপুরা রাজ্যের সেপাহিজালা জেলা, কমলাসাগর সীমান্ত এলাকা |
| সময় | শুক্রবার, ৮ মে, গভীর রাত |
| নিহত ব্যক্তি | নবীন হোসেন (৪০), মো. মোরসালিন (২০) |
| পরিচয় | বাংলাদেশি নাগরিক (ভারতীয় পুলিশের দাবি অনুযায়ী স্বীকৃত) |
| ভারতের পক্ষের দাবি | চোরাচালানের সময় ইট-পাটকেল নিক্ষেপের পর আত্মরক্ষার্থে গুলি |
| চিকিৎসা স্থান | বিশালগড় হাসপাতাল |
| পরবর্তী ব্যবস্থা | ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ বিজিবির কাছে হস্তান্তর |
এই ঘটনার পর সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং উভয় দেশের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে সতর্কতা অবলম্বনের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
