ভারতের ক্রিকেটাঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে দেশটির দুই উদীয়মান তারকা যশস্বী জয়সওয়াল এবং শেফালি ভার্মাকে নিয়ে। ন্যাশনাল অ্যান্টি-ডোপিং এজেন্সি (নাডা) তাদের নিবন্ধিত টেস্টিং পুলের (আরটিপি) অন্তর্ভুক্ত থাকা সত্ত্বেও ডোপ পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত না থাকায় এই দুই ক্রিকেটারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেছে।
Table of Contents
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও অনুপস্থিতি
নাডার নিয়ম অনুযায়ী, নিবন্ধিত অ্যাথলেটদের ডোপ পরীক্ষার জন্য নিজেদের অবস্থান (Whereabouts) সম্পর্কে আগে থেকেই তথ্য প্রদান করতে হয়। এই নিয়ম পালনে ব্যর্থ হয়েছেন পুরুষ দলের ওপেনার যশস্বী জয়সওয়াল এবং নারী দলের মারকুটে ব্যাটার শেফালি ভার্মা।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৭ নভেম্বর ডোপ কন্ট্রোল অফিসাররা শেফালি ভার্মার বাসভবনে নমুনা সংগ্রহের জন্য উপস্থিত হয়েছিলেন, কিন্তু তাকে সেখানে পাওয়া যায়নি। একইভাবে, ১৭ ডিসেম্বর যশস্বী জয়সওয়ালের ক্ষেত্রেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। নমুনা সংগ্রহ করতে গিয়ে কর্মকর্তারা জয়সওয়ালের কোনো হদিস পাননি।
নাডার পদক্ষেপ ও সময়সীমা
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে নাডার পক্ষ থেকে এই দুই ক্রিকেটারের কাছে তাদের অনুপস্থিতির সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে চেয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের কাছ থেকে কোনো সন্তোষজনক উত্তর বা সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে নাডা তাদের রেকর্ডবুকে এই দুই খেলোয়াড়কে ‘পরীক্ষায় অনুপস্থিত’ বা ‘হোয়্যারঅবাউটস ফেইলর’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
বর্তমানে এই বিষয়টি ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই) এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। নাডার পক্ষ থেকে দুই ক্রিকেটারকে শেষবারের মতো সাত দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে তাদের অবস্থান এবং অনুপস্থিতির যৌক্তিক কারণ ব্যাখ্যা করার জন্য।
ডোপ পরীক্ষার নির্ধারিত সময় ও নিয়মাবলী
নিচে নাডার নিবন্ধিত টেস্টিং পুলের নিয়মাবলী এবং দুই ক্রিকেটারের অনুপস্থিতির তথ্য একটি টেবিলের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
| সংশ্লিষ্ট সংস্থা | ন্যাশনাল অ্যান্টি-ডোপিং এজেন্সি (নাডা) |
| খেলোয়াড়দের নাম | যশস্বী জয়সওয়াল (পুরুষ দল) ও শেফালি ভার্মা (নারী দল) |
| তালিকাভুক্তি | রেজিস্টার্ড টেস্টিং পুল (RTP) |
| শেফালি ভার্মার অনুপস্থিতি | ৭ নভেম্বর, ২০২৩ |
| জয়সওয়ালের অনুপস্থিতি | ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৩ |
| অভিযোগের ধরন | হোয়্যারঅবাউটস ফেইলর (Whereabouts Failure) |
| বর্তমান অবস্থা | বিসিসিআই ও আইসিসি-কে অবহিতকরণ |
| চূড়ান্ত সময়সীমা | ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য ৭ দিন |
এন্টি-ডোপিং নীতি ও সম্ভাব্য পরিণতি
ওয়ার্ল্ড এন্টি-ডোপিং এজেন্সি (ওয়াদা) এবং নাডার কঠোর নীতি অনুযায়ী, একজন অ্যাথলেট যদি ১২ মাসের মধ্যে তিনবার ডোপ পরীক্ষার জন্য অনুপস্থিত থাকেন বা অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য ভুল প্রদান করেন, তবে তাকে নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়তে হতে পারে। এক্ষেত্রে জয়সওয়াল ও শেফালির এটি প্রথম বা দ্বিতীয় পর্যায়ের ত্রুটি হিসেবে গণ্য হচ্ছে কি না, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।
নাডার নিয়ম অনুযায়ী, নিবন্ধিত অ্যাথলেটদের প্রতিদিনের অন্তত এক ঘণ্টা সময় এবং সুনির্দিষ্ট স্থান উল্লেখ করতে হয় যেখানে তারা পরীক্ষার জন্য উপলব্ধ থাকবেন। যদি কোনো খেলোয়াড় ব্যক্তিগত বা পেশাদার কারণে স্থান পরিবর্তন করেন, তবে তা অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক আপডেট করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
বিসিসিআই সাধারণত তাদের কেন্দ্রীয় চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়দের এই নিয়মগুলো সম্পর্কে নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মশালা পরিচালনা করে থাকে। তা সত্ত্বেও কেন এই দুই তারকা ক্রিকেটার নিয়মের ব্যত্যয় ঘটালেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারলে নাডা বিষয়টি নিয়ে কঠোর আইনি পথে হাঁটতে পারে, যা এই দুই উদীয়মান ক্রিকেটারের ক্যারিয়ারের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বর্তমানে জয়সওয়াল ও শেফালির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
