সাবেক মিস ইন্ডিয়া ও বলিউড অভিনেত্রী সেলিনা জেটলির ব্যক্তিগত জীবন বর্তমানে এক চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে। দীর্ঘদিনের দাম্পত্য জীবনের আড়ালে থাকা মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ এবার আইনি লড়াইয়ের রূপ নিয়েছে। মুম্বাই পুলিশ অভিনেত্রীর স্বামী, অস্ট্রীয় নাগরিক পিটার হাগের বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য নির্যাতনের অভিযোগে এফআইআর (FIR) দায়ের করেছে। তদন্ত চলাকালীন তিনি যাতে দেশত্যাগ করতে না পারেন, সে লক্ষ্যে তাঁর বিরুদ্ধে লুক-আউট সার্কুলার জারি করা হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও আইনি পদক্ষেপ
২০১১ সালে দুবাইয়ের হোটেল ব্যবসায়ী পিটার হাগের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন সেলিনা জেটলি। বিয়ের পর বলিউড থেকে একপ্রকার বিদায় নিয়ে তিনি প্রবাসে সংসার শুরু করেন। তবে সাম্প্রতিক অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘ তেরো বছরের এই দাম্পত্য জীবনে তিনি নিয়মিত নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে সেলিনা প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে স্বামী পিটার হাগের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং গার্হস্থ্য সহিংসতা থেকে নারী সুরক্ষা আইন, ২০০৫ (গার্হস্থ্য সহিংসতা আইন) এর অধীনে এই মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে।
পুলিশি সূত্রে জানা গেছে, পিটার হাগের বিরুদ্ধে নিষ্ঠুরতা, মানসিক হয়রানি, শারীরিক আঘাত এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে অসহযোগিতার আশঙ্কায় প্রশাসন তাঁর পাসপোর্টের ওপর নজরদারি বাড়িয়েছে এবং বিমানবন্দরগুলোতে সতর্কতা জারি করেছে।
পিটার হাগের পরিচয় ও পেশাগত জীবন
পিটার হাগ আন্তর্জাতিক হোটেল ও আতিথেয়তা শিল্পের একজন সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব। নিচে তাঁর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি প্রদান করা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
| নাম | পিটার হাগ (Peter Haag) |
| জাতীয়তা | অস্ট্রীয় (Austrian) |
| পেশা | হোটেল ব্যবসায়ী ও ব্র্যান্ডিং বিশেষজ্ঞ |
| অভিজ্ঞতা | দুবাই ও সিঙ্গাপুরের বিলাসবহুল হোটেল চেইনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা |
| বিবাহ | ২০১১ সালে সেলিনা জেটলির সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন |
| সন্তান | চার পুত্র (উইনস্টন, বিরাজ, শমশের এবং আর্থার) |
সামাজিক মাধ্যমে পরোক্ষ বার্তা ও মানসিক যন্ত্রণা
মামলা চলাকালীন সেলিনা জেটলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ কিছু আবেগঘন ও ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করেছেন। সম্প্রতি ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে তিনি ‘ব্রেকিং আপ উইথ আ নার্সিসিস্ট’ নামক একটি বইয়ের ছবি শেয়ার করেন। সেখানে তিনি হাইলাইট করেন যে, একজন ‘নার্সিসিস্ট’ বা আত্মমুগ্ধ ব্যক্তির সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা মানে নিজের হারানো সত্তা ও কণ্ঠস্বর ফিরে পাওয়া।
এছাড়া তিনি তাঁর পরলোকগত সন্তান শমশেরের কবরের সামনে দাঁড়ানো একটি ভিডিও প্রকাশ করে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, বর্তমানে তিনি তাঁর বাকি সন্তানদের সাথেও স্বাভাবিক যোগাযোগ করতে পারছেন না। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে যমজ সন্তান প্রসবের সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শমশের মারা যায়, যা অভিনেত্রীকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল।
ক্ষতিপূরণ ও বর্তমান অবস্থা
আইনি লড়াইয়ের অংশ হিসেবে সেলিনা জেটলি ৫০ কোটি রুপির আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। তাঁর অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বছরের পর বছর ধরে চলা নির্যাতনের ফলে তাঁর পেশাগত ক্যারিয়ার ও মানসিক স্বাস্থ্যের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। বলিউডে ‘নো এন্ট্রি’ বা ‘গোলমাল রিটার্নস’-এর মতো সফল চলচ্চিত্রে অভিনয় করা এই অভিনেত্রী বর্তমানে তাঁর সন্তানদের অধিকার এবং নিজের সামাজিক মর্যাদা ফিরে পেতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
পিটার হাগ বা তাঁর আইনি প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। মুম্বাই পুলিশ মামলার তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং আগামী দিনগুলোতে এই আইনি লড়াই আরও জটিল মোড় নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
