বিশ্বকাপে নেইমারকে চান মেসি

আর্জেন্টিনার অধিনায়ক ও ইন্টার মায়ামির তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসি চলতি বছরের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়র-কে খেলতে দেখতে চান বলে মন্তব্য করেছেন। দীর্ঘদিন একসঙ্গে ক্লাব ফুটবলে খেলার অভিজ্ঞতা থেকে গড়ে ওঠা সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে তিনি এই মত প্রকাশ করেন।

মেসি ও নেইমার একসঙ্গে প্রথম খেলেন এফসি বার্সেলোনা-তে। সেখানে তারা চার মৌসুম একসঙ্গে খেলেন এবং পরে প্যারিস সাঁ-জার্মেই-এ আরও দুই মৌসুম সতীর্থ হিসেবে মাঠে নামেন। ২০২৩ সালে দুইজনই ভিন্ন পথে এগিয়ে যান—মেসি যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টার মায়ামিতে এবং নেইমার সৌদি ক্লাব আল-হিলালে যোগ দেন।

সাক্ষাৎকারে মেসি বলেন, সেরা খেলোয়াড়দের বিশ্বকাপে থাকা ফুটবলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তার ভাষায়, নেইমার যেকোনো অবস্থাতেই বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের একজন হিসেবে বিবেচিত হন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ব্রাজিল ও ফুটবলের জন্য নেইমারের গুরুত্ব অনেক বেশি এবং তাকে বিশ্বকাপে দেখতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে আগ্রহী।

নেইমারের বর্তমান ক্লাব ক্যারিয়ার শুরু হয়েছে তার শৈশবের ক্লাব সান্তোস এফসি-তে প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে। তবে চলমান সময়ে হাঁটুর চোটের কারণে তার অংশগ্রহণ সীমিত হয়ে পড়েছে। ২০২৬ সালের মৌসুমে এখন পর্যন্ত তিনি মাত্র আটটি ম্যাচ খেলেছেন। এই সময়ে তিনি তিনটি গোল এবং দুটি অ্যাসিস্ট করেছেন।

চোট ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে নেইমার ডিসেম্বরের শেষ দিকে একটি ছোট অস্ত্রোপচার করান এবং মার্চে আরেকটি চিকিৎসা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যান। দীর্ঘদিন ধরে তার ফিটনেস নিয়ে সমস্যা চলতে থাকায় ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে তার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয়েছে।

নিচের টেবিলে নেইমারের সাম্প্রতিক মৌসুমের প্রাপ্ত তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:

বিষয়পরিসংখ্যান
ম্যাচ সংখ্যা৮টি
গোল৩টি
অ্যাসিস্ট২টি
চিকিৎসা প্রক্রিয়া২টি (ডিসেম্বর ও মার্চ)

নেইমার ২০১৩ সাল থেকে ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দল-এর নিয়মিত সদস্য। তিনি ইতোমধ্যে তিনটি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চোট ও ফর্ম সমস্যার কারণে ২০২৩ সালের পর জাতীয় দলের হয়ে তার মাঠে নামা হয়নি।

মেসি সাক্ষাৎকারে আরও বলেন, নেইমারের ব্যক্তিত্ব আলাদা এবং তিনি নিজের স্বাভাবিক জীবনধারায় চলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। দীর্ঘদিনের সতীর্থ হিসেবে মেসি তার প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখেন এবং চান তার পেশাদার ক্যারিয়ারে ইতিবাচক অগ্রগতি হোক।

এই মন্তব্যের মাধ্যমে বিশ্ব ফুটবলের দুই মহাতারকার দীর্ঘদিনের পেশাদার সম্পর্ক ও পারস্পরিক সম্মানের দিকটি আবারও আলোচনায় এসেছে, যেখানে ক্লাব ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।