সন্তানদের রক্ষা করে দগ্ধ দম্পতির মৃত্যু

ঢাকার দোহারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তিন সন্তানকে নিরাপদে বের করে দিতে সক্ষম হলেও আগুনে পুড়ে মারা গেছেন এক দম্পতি। নিহতরা হলেন আবদুস সালাম শিকদার ও তার স্ত্রী নাসিমা বেগম। শুক্রবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে।

শুক্রবার (৮ মে) রাত দেড়টার দিকে দোহারের বিলাশপুর রাধানগর গ্রামে তাদের বাড়িতে আগুন লাগে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গভীর রাতে হঠাৎ ঘরে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ঘরের ভেতরে থাকা আবদুস সালাম শিকদার ও নাসিমা বেগম বিপদের মধ্যে পড়েন।

আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকলে দম্পতি প্রথমেই তাদের তিন সন্তানকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, তারা সন্তানদের জানালা দিয়ে বাইরে ফেলে নিরাপদে বের করে দেন। সন্তানদের উদ্ধার করার পর নিজেরা ঘর থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলেও তা আর সম্ভব হয়নি। আগুনের মধ্যে আটকা পড়ে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

দম্পতির চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালান এবং ভেতরে আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন। তবে আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় তারা দম্পতিকে বের করতে পারেননি।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। দীর্ঘ চেষ্টার পর ভোর ৪টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এ অগ্নিকাণ্ডে টিন ও কাঠ দিয়ে নির্মিত পুরো ঘরটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।

ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে। পরে নিহত দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়।

দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিক জানান, আবদুস সালাম শিকদার ও তার স্ত্রী নাসিমা বেগম ঘটনাস্থলেই মারা যান। মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি নাশকতা নাকি দুর্ঘটনাজনিত অগ্নিকাণ্ড—তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

নিচে ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য উপস্থাপন করা হলো—

বিষয়তথ্য
ঘটনাঅগ্নিকাণ্ডে দম্পতির মৃত্যু
স্থানবিলাশপুর রাধানগর গ্রাম, দোহার, ঢাকা
সময়শুক্রবার (৮ মে), রাত দেড়টা
নিহত২ জন
উদ্ধার৩ সন্তান জীবিত উদ্ধার
ক্ষয়ক্ষতিটিন ও কাঠের তৈরি ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে
আগুন নিয়ন্ত্রণভোর ৪টার দিকে
তদন্তনাশকতা নাকি দুর্ঘটনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে

স্থানীয়ভাবে এ ঘটনায় শোকের পরিবেশ তৈরি হলেও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগুন লাগার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত ও প্রাথমিক তদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।