লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলায় পারিবারিক জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ, মানসিক চাপ এবং দাম্পত্য টানাপোড়েনের জেরে মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন (২৩) নামে এক যুবকের মৃত্যু ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে স্ত্রীর সঙ্গে মনোমালিন্যকে কেন্দ্র করে আত্মহত্যার ঘটনা বলে প্রচার হলেও পরবর্তীতে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে ভিন্ন ও জটিল পারিবারিক বাস্তবতা।
গত বুধবার ভোরে উপজেলার চরআলগী ইউনিয়নের সুফিরহাট এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি ওই এলাকার মৃত জবিউল ডাক্তারের ছোট ছেলে। পরিবারে তার মা, দুই বোন ও অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে তার দুই বোন নাজমা বেগম ও শারমিন আক্তারের মধ্যে পৈতৃক জমি বিক্রি ও মালিকানা নিয়ে বিরোধ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, জমি বিক্রির কথা বলে দুই বোন তার কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ নিলেও রেজিস্ট্রির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেননি। এ নিয়ে পারিবারিক কলহ ক্রমেই তীব্র হয়ে ওঠে।
গত ১ মে পারিবারিক এক বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে মা দুই মেয়ের পক্ষ নেন। এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন আনোয়ার। উত্তেজনার মুহূর্তে তিনি মায়ের গায়ে হাত তোলেন, যা পরবর্তীতে তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। স্বজনদের দাবি, ঘটনার পর থেকেই তিনি গভীর অনুশোচনা ও মানসিক চাপে ভুগছিলেন।
অন্যদিকে পারিবারিক সূত্র আরও জানায়, তার দাম্পত্য জীবনেও অস্থিরতা ছিল। স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার বাবার বাড়ি যাওয়ার সময় এক লাখ বিশ হাজার টাকা সঙ্গে নিয়ে যান—এমন অভিযোগ পরিবারের একাংশের। পরে তাকে ফিরিয়ে আনতে গেলে শ্বশুরবাড়িতে অপমান ও শর্তের মুখে পড়েন তিনি। পরিবারের দাবি, স্ত্রীর পক্ষ থেকে একাধিক কঠিন শর্ত আরোপ করা হয়েছিল, যা মানসিকভাবে তাকে আরও দুর্বল করে তোলে।
তবে নিহতের স্ত্রী এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, জমি ও আর্থিক বিষয় নিয়ে ননদদের সঙ্গে বিরোধই মূল সমস্যা ছিল। তিনি দাবি করেন, ঘটনার দিন আনোয়ারের মা মেয়েদের পক্ষ নিয়ে ঝগড়া শুরু করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং পরে তিনি শারীরিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হন।
ঘটনার একটি সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ নিচে দেওয়া হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নিহত ব্যক্তি | মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন (২৩) |
| ঘটনা | পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও আত্মহত্যা |
| স্থান | সুফিরহাট, চরআলগী ইউনিয়ন |
| প্রধান বিরোধ | জমিজমা ও অর্থ লেনদেন |
| মানসিক কারণ | অনুশোচনা ও পারিবারিক চাপ |
| আইনি অবস্থা | অপমৃত্যু মামলা দায়ের |
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি পর্যায়ের এক নেতা জানান, দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ মেটাতে সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছিল, তবে তার আগেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং পারিবারিক বিরোধ ও মানসিক চাপের কারণে তরুণের এমন পরিণতি নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
