শ্লীলতাহানি ও ব্ল্যাকমেইলে দুইজন আটক

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় এক নারী উদ্যোক্তাকে জোরপূর্বক শ্লীলতাহানি করে মুঠোফোনে দৃশ্য ধারণ এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে দুইজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ দাবি করার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনাটি ঘটে উপজেলার মহিচাইল সরকারি হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায়। শুক্রবার ভোরে বিশেষ অভিযানে অভিযুক্ত দুইজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি তৈরি ও সংরক্ষণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং যৌন হয়রানির অভিযোগে মামলা প্রক্রিয়া শুরু হয়।

অভিযুক্তদের পরিচয়

নামবয়সপরিচয়ঠিকানা
মো. রুবেল২৮ বছরগাড়িচালকমহিচাইল বাজার সংলগ্ন এলাকা, চান্দিনা
মো. জামাল৪০ বছরস্থানীয় বাসিন্দামহিচাইল বাজার সংলগ্ন এলাকা, চান্দিনা

ভুক্তভোগী নারী জানান, তিনি স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে মহিচাইল বাজারে একটি রূপচর্চা কেন্দ্র পরিচালনা করে আসছেন। দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি তাকে বিভিন্নভাবে উত্যক্ত করছিল এবং অনৈতিক প্রস্তাব দিচ্ছিল। তিনি প্রস্তাবে রাজি না হলে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তরা তাকে হুমকি দিতে শুরু করে যে, তার নামে মিথ্যা ও অশ্লীল দৃশ্য তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তারা তার কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে বলে জানা গেছে।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনার মাত্রা আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্তরা তার রূপচর্চা কেন্দ্রে প্রবেশ করে জোরপূর্বক শারীরিকভাবে হেনস্তা করে এবং সেই দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করে। ঘটনার পর তিনি আতঙ্কিত হয়ে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে যোগাযোগ করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এ ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নারী উদ্যোক্তাদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ছাড়া বন্ধ করা সম্ভব নয়।

চান্দিনা থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযান চালিয়ে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। তিনি আরও জানান, ঘটনাটির পেছনে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পুরো চক্র শনাক্তে তদন্ত চলমান রয়েছে।

এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ভুক্তভোগীর নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনি সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।

এই ঘটনার পর স্থানীয় পর্যায়ে নারীদের নিরাপত্তা, অনলাইন ও অফলাইন হুমকি এবং ব্ল্যাকমেইল প্রতিরোধে আরও কঠোর নজরদারির দাবি উঠেছে।