ভৈরবে আধিপত্য নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ

ভৈরবে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় দুটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধ চলছিল বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। সেই পুরোনো বিরোধই শেষ পর্যন্ত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভবানীপুর গ্রামের ময়দর মুন্সি বাড়ি ও একই এলাকার বধু গোষ্ঠীর মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। শুক্রবার দুপুরে ওই বিরোধ নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ময়দর মুন্সি বাড়ির ফরহাদ এবং একই পরিবারের মাসুমের মধ্যে প্রথমে তর্কবিতর্ক শুরু হয়। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের লোকজন একে অপরের ওপর ধারালো অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন গুরুতর ও আংশিকভাবে আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং বাকিদের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

আহতদের মধ্যে সানি, হৃদয়, ফরহাদ, জহির, গোলাপ, ইসমাইল মিয়া, জুয়েল মিয়া, সগীর আহমেদ ও রাজু মিয়া উল্লেখযোগ্য। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

পরে স্থানীয়দের খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের উপস্থিতিতে দুই পক্ষ কিছুটা পিছু হটলেও এলাকায় এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে।

আহতদের প্রাথমিক তথ্য

নামঅবস্থাচিকিৎসার স্থান
সানিআহতউপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
হৃদয়আহতবেসরকারি হাসপাতাল
ফরহাদগুরুতর আহতউপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
জহিরআহতবেসরকারি হাসপাতাল
গোলাপআহতউপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
ইসমাইল মিয়াগুরুতর আহতবেসরকারি হাসপাতাল
জুয়েল মিয়াআহতউপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
সগীর আহমেদআহতবেসরকারি হাসপাতাল
রাজু মিয়াআহতউপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মেরাজ মিয়া দাবি করেন, একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ গোষ্ঠী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়, এতে তাদের পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। অপরদিকে বধু গোষ্ঠীর পক্ষের বাদশা মিয়া বলেন, মাসুম মিয়াকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল এবং মেরাজ মেম্বার ও ফরহাদ মিয়ার লোকজনই প্রথমে হামলা চালায়, যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

ভৈরব থানার পরিদর্শক (তদন্ত) লিমন বোস জানান, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, স্থানীয় আধিপত্য ও পারিবারিক বিরোধই এই সংঘর্ষের মূল কারণ। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান।

এ ঘটনায় এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ ও স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন সহিংস ঘটনা আর না ঘটে।