২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ: টিকিটের উচ্চমূল্য ও ফিফা সভাপতির ব্যাখ্যা

২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা তৈরি হলেও, টিকিটের চড়া মূল্য বর্তমানে বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য এই মেগা ইভেন্টের টিকিটের দাম নিয়ে বিভিন্ন সমর্থক গোষ্ঠী ও আন্তর্জাতিক মহলে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি এই বিতর্ক ও সমালোচনার প্রেক্ষিতে মুখ খুলেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তিনি বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর নিরিখে ফিফার অবস্থান পরিষ্কার করেছেন।

সমালোচনার প্রেক্ষাপট ও ইনফান্তিনোর বক্তব্য

ফুটবল সমর্থকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ‘ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপ’ ফিফার এই মূল্য কাঠামোকে ‘অতিরিক্ত’ এবং ‘সমর্থকবিরোধী’ হিসেবে অভিহিত করেছে। অভিযোগ উঠেছে যে, টিকিটের উচ্চমূল্য সাধারণ সমর্থকদের খেলা দেখা থেকে বঞ্চিত করতে পারে। এমনকি টিকিটের দাম নিয়ে অসন্তোষের জেরে ফিফার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে।

এই সমালোচনার জবাবে জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানান, ফিফা এককভাবে দাম বাড়াচ্ছে না, বরং যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান বাজারব্যবস্থা এবং টিকিট পুনর্বিক্রয় (Resell) সংক্রান্ত নিয়মাবলী বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রে টিকিট পুনর্বিক্রি একটি বৈধ প্রক্রিয়া। যদি ফিফা অত্যন্ত কম মূল্যে টিকিট ছাড়ে, তবে মধ্যস্বত্বভোগীরা সেই টিকিট কিনে নিয়ে রিসেল মার্কেটে কয়েক গুণ বেশি দামে বিক্রি করার সুযোগ পায়। এই বাজার বাস্তবতা নিয়ন্ত্রণ করতেই প্রাথমিক মূল্যে সামঞ্জস্য বিধান করা হয়েছে।

টিকিটের চাহিদা ও পুনর্বিক্রয় বাজার

ফিফার রিসেল প্ল্যাটফর্মে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের টিকিটের দাম কয়েক মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত উঠতে দেখা গেছে। তবে ইনফান্তিনো স্পষ্ট করেছেন যে, এই আকাশচুম্বী দাম ফিফা নির্ধারিত মূল দাম নয়। এটি মূলত উচ্চ চাহিদার কারণে সেকেন্ডারি মার্কেটে তৈরি হওয়া একটি কৃত্রিম মূল্য। এবারের বিশ্বকাপের টিকিটের জন্য ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ কোটির বেশি আবেদন জমা পড়েছে, যা গত দুটি বিশ্বকাপের সম্মিলিত আবেদনের চেয়েও অনেক বেশি।

নিচে ফিফা সভাপতির বক্তব্যের আলোকে টিকিটের বাজার পরিস্থিতি ও এর কারণগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত রূপরেখা দেওয়া হলো:

বিষয়বিবরণ ও তথ্য
আবেদন সংখ্যা২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ৫০ কোটির অধিক টিকিটের আবেদন জমা পড়েছে।
মূল্য নির্ধারণের ভিত্তিযুক্তরাষ্ট্রের বাজারব্যবস্থা এবং স্থানীয় স্পোর্টস ইভেন্টের খরচ।
রিসেল মার্কেটযুক্তরাষ্ট্রে টিকিট পুনর্বিক্রি বৈধ হওয়ায় রিসেল বাজারে দাম কয়েক মিলিয়ন ডলার স্পর্শ করেছে।
গ্রুপ পর্বের টিকিটফিফার দাবি অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের টিকিট সাধারণের সাধ্যের মধ্যে রাখা হয়েছে।
সমর্থকদের প্রতিক্রিয়াফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপ এই মূল্য কাঠামোকে ‘সমর্থকবিরোধী’ বলে আখ্যা দিয়েছে।

বাজার বাস্তবতার চ্যালেঞ্জ

ইনফান্তিনোর মতে, উত্তর আমেরিকার ক্রীড়া সংস্কৃতিতে বড় ইভেন্টের টিকিটের দাম ঐতিহাসিকভাবেই কিছুটা বেশি থাকে। বাস্কেটবল বা আমেরিকান ফুটবলের মতো বড় আসরগুলোর টিকিট মূল্যের সাথে ফুটবল বিশ্বকাপের তুলনা করে তিনি বলেন, বাজারের চাহিদাই এখানে প্রধান নিয়ন্ত্রক। ফিফার লক্ষ্য হচ্ছে সর্বোচ্চসংখ্যক সমর্থককে মাঠে আনা, তবে একই সাথে টিকিট কালোবাজারি বা অনিয়ন্ত্রিত রিসেল ঠেকাতে কৌশলগত মূল্য নির্ধারণ করা জরুরি।

তিনি আরও আশ্বস্ত করেন যে, শুধুমাত্র ফাইনাল বা বড় ম্যাচগুলোর দাম নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, টুর্নামেন্টের শুরুর দিকের ম্যাচগুলোতে কম আয়ের সমর্থকদের জন্য টিকিটের বিশেষ ক্যাটাগরি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং সীমিত আসনের কারণে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকিটের এই ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ করা ফিফার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সব মিলিয়ে, ২০২৬ বিশ্বকাপ অর্থনৈতিক এবং কৌশলগত উভয় দিক থেকেই ফিফার জন্য এক নতুন অভিজ্ঞতার ক্ষেত্র তৈরি করছে।