ফুটবল বিশ্বে সাধারণত ৩০ বছর বয়সকে একজন খেলোয়াড়ের শারীরিক ও মানসিক পূর্ণতার সময় হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে জার্মানির অভিজ্ঞ সেন্টার-ব্যাক এবং সাবেক চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী নিকলাস সুলে এই বয়সেই পেশাদার ফুটবল থেকে বিদায়ের চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছেন। বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের এই রক্ষণভাগ তারকা চলতি মৌসুমের শেষ ম্যাচ খেলার পরই নিজের বুটজোড়া তুলে রাখবেন। গত সেপ্টেম্বরে ৩০ বছরে পা রাখা সুলের এই সিদ্ধান্ত ফুটবল অঙ্গনে বেশ আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
Table of Contents
ক্যারিয়ারের অর্জনের ঝুলি
নিকলাস সুলে তার দীর্ঘ ফুটবল ক্যারিয়ারে বিশেষ করে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছেন। ২০২০ সালে বায়ার্ন মিউনিখের ঐতিহাসিক ‘ট্রেবল’ জয়ের অন্যতম কারিগর ছিলেন তিনি। বায়ার্নের জার্সিতে টানা পাঁচবার বুন্দেসলিগা শিরোপার পাশাপাশি তিনি উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের স্বাদ পেয়েছেন। ২০২২ সালে বায়ার্ন ছেড়ে তিনি চার বছরের চুক্তিতে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডে যোগ দেন। ডর্টমুন্ডের হয়ে ২০২৪ সালে আবারও চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে উঠলেও সেবার তাকে রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়।
ইনজুরির দীর্ঘ ইতিহাস ও অবসরের কারণ
সুলের অকাল অবসরের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করেছে তার দীর্ঘমেয়াদী চোট। ক্যারিয়ারের বিভিন্ন সময়ে তিনি হাঁটু এবং লিগামেন্টের সমস্যায় জর্জরিত ছিলেন। ট্রান্সফারমার্কেটের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৩ বছরের পেশাদার ক্যারিয়ারে তিনি মোট ১৩৩টি ম্যাচ চোটের কারণে খেলতে পারেননি। এর মধ্যে দুইবার তিনি ভয়াবহ এসিএল (অ্যান্টিরিওর ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট) ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়েছিলেন।
সম্প্রতি ১৮ এপ্রিল হফেনহাইমের বিপক্ষে ম্যাচে তিনি পুনরায় হাঁটুতে চোট পান। প্রাথমিকভাবে এটি তৃতীয়বারের মতো এসিএল ইনজুরি বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল। স্পিলমাখার পডকাস্টে সেই অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে গিয়ে সুলে জানান, ড্রেসিংরুমে দলের চিকিৎসকের প্রাথমিক পরীক্ষার পর তিনি এতটাই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন যে শাওয়ারে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ কেঁদেছিলেন। যদিও পরবর্তী এমআরআই রিপোর্টে দেখা যায় যে তার এসিএল ছিঁড়ে যায়নি, তবে সেই মুহূর্তের মানসিক ধকলই তাকে খেলা ছাড়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছে দেয়।
সুলে তার বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন যে, বারবার চোটের সঙ্গে লড়াই করার চেয়ে সুস্থ অবস্থায় অবসর নেওয়া এবং পরিবারের সঙ্গে গুণগত সময় কাটানোই এখন তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
নিকলাস সুলের ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান ও অর্জন (একনজরে)
| বিষয় | তথ্য ও পরিসংখ্যান |
| জন্ম তারিখ | সেপ্টেম্বর, ১৯৯৫ |
| অবসরের বয়স | ৩০ বছর |
| বর্তমান ক্লাব | বরুসিয়া ডর্টমুন্ড |
| প্রাক্তন ক্লাব | হফেনহাইম, বায়ার্ন মিউনিখ |
| চ্যাম্পিয়নস লিগ জয় | ১ বার (২০২০, বায়ার্ন মিউনিখ) |
| বুন্দেসলিগা শিরোপা | ৫ বার (বায়ার্ন মিউনিখ) |
| জাতীয় দলের হয়ে অংশগ্রহণ | দুটি বিশ্বকাপ (জার্মানির হয়ে) |
| ক্যারিয়ারে মিস করা ম্যাচ | ১৩৩টি (চোটজনিত কারণে) |
| এসিএল ইনজুরি | ২ বার (পেশাদার ক্যারিয়ারে) |
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
নিকলাস সুলে পরিষ্কার করেছেন যে, তার শরীর আর উচ্চপর্যায়ের ফুটবলের ধকল নেওয়ার উপযোগী নয়। বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের সাথে তার চুক্তি নবায়ন না হওয়ার বিষয়টি আগেই নিশ্চিত ছিল। তবে নতুন কোনো ক্লাবে যাওয়ার পরিবর্তে তিনি ব্যক্তিগত জীবনের স্বাধীনতাকে প্রাধান্য দিয়েছেন। সন্তানদের সময় দেওয়া এবং শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখাই এখন তার মূল লক্ষ্য। আগামী গ্রীষ্মের মাধ্যমেই জার্মানির এই শক্তিশালী ডিফেন্ডারের ১৩ বছরের বর্ণিল পেশাদার যাত্রার সমাপ্তি ঘটবে।
