দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে প্রতিদিনই বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হারে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। বৈশ্বিক অর্থনীতির ওঠানামা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিস্থিতি, প্রবাসী আয় এবং আমদানি–রপ্তানি প্রবাহের ওপর ভিত্তি করে এসব হার নির্ধারিত হয়। বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক প্রবাসী কর্মী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করায় বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের ফলে ডলার, ইউরো ও অন্যান্য মুদ্রার চাহিদাও নিয়মিতভাবে ওঠানামা করে।
আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে ২০২৬) লেনদেন সহজ করতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি মুদ্রার ক্রয় ও বিক্রয় হার প্রকাশ করা হয়েছে। ব্যাংক ও মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত এই হার নির্ধারণে বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতি এবং স্থানীয় চাহিদা বিবেচনায় নেয়। নিচে আজকের মুদ্রা বিনিময় হার তুলে ধরা হলো—
| মুদ্রার নাম | ক্রয় মূল্য (টাকা) | বিক্রয় মূল্য (টাকা) |
|---|---|---|
| মার্কিন ডলার | ১২২.২০ | ১২৩.২০ |
| ইউরো | ১৪১.৭৮ | ১৪৬.৬৬ |
| ব্রিটিশ পাউন্ড | ১৬৪.৩৩ | ১৬৯.৪১ |
| জাপানি ইয়েন | ০.৭৭ | ০.৮০ |
| সিঙ্গাপুর ডলার | ৯৬.০০ | ৯৭.৫৯ |
| সংযুক্ত আরব আমিরাত দিরহাম | ৩৩.২৬ | ৩৩.৫৫ |
| অস্ট্রেলিয়ান ডলার | ৮৭.৯৬ | ৮৯.৯৪ |
| সুইস ফ্রাঁ | ১৫৫.৪৭ | ১৫৯.৬৫ |
| সৌদি রিয়াল | ৩২.৫৬ | ৩২.৮৬ |
| চীনা ইউয়ান | ১৭.৮৫ | ১৮.২১ |
| ভারতীয় রুপি | ১.২৮ | ১.৩১ |
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে মার্কিন ডলারের প্রভাব সবচেয়ে বেশি। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বড় অংশ ডলারের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ায় এর চাহিদা সবসময় উচ্চ থাকে। ফলে ডলারের বিনিময় হার পরিবর্তন হলে অন্যান্য মুদ্রার হারেও তার প্রভাব পড়ে।
অন্যদিকে, ইউরোপীয় অর্থনীতি ও ব্রিটেনের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও ইউরো ও পাউন্ডের দামের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে এসব মুদ্রার বিনিময় হার কিছুটা ওঠানামা করছে। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের দাম, সুদের হার পরিবর্তন এবং ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিও মুদ্রাবাজারে প্রভাব ফেলছে।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, আমেরিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে আসা রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করে। বিশেষ করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মালয়েশিয়া থেকে আসা আয় সৌদি রিয়াল, দিরহাম ও রিংগিতের চাহিদা বৃদ্ধি করে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যকর মনিটরিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সময়মতো নীতি নির্ধারণ করা হলে মুদ্রা বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব।
উল্লেখ্য, বৈদেশিক মুদ্রার হার যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা এবং স্থানীয় চাহিদা–সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে এসব হার নিয়মিতভাবে হালনাগাদ করা হয়।
