বিশ্বকাপের মঞ্চে ডিজে সঞ্জয়

ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে পৃথক উদ্বোধনী আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তিন আয়োজক দেশেই নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সংগীতধারাকে তুলে ধরতে বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। এসব অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের জনপ্রিয় শিল্পীদের পাশাপাশি স্থানীয় ও আঞ্চলিক শিল্পীরাও অংশ নেবেন।

বিশ্বকাপের অন্যতম বড় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস সংলগ্ন সোফাই স্টেডিয়ামে। যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় ফুটবল দলের প্রথম ম্যাচের আগে সেখানে বিশেষ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকদের ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী, এই অনুষ্ঠানে পারফর্ম করবেন মার্কিন পপ তারকা কেটি পেরি, দক্ষিণ কোরিয়ার সংগীতশিল্পী লিসা এবং বাংলাদেশি-আমেরিকান ডিজে সঞ্জয়।

ডিজে সঞ্জয় এই আয়োজনকে নিজের ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরের মঞ্চে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাওয়া তাঁর জন্য বিশেষ সম্মানের বিষয়। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার সংগীত অঙ্গনে কাজ করে পরিচিতি অর্জন করেছেন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাঁকে দক্ষিণ এশীয় ইলেকট্রনিক সংগীতের পরিচিত মুখ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।

ফিফার পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিনটি আয়োজক দেশেই আলাদা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে এবং প্রতিটি আয়োজনে স্থানীয় সংস্কৃতির বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হবে। অনুষ্ঠানগুলো ম্যাচ শুরুর প্রায় ৯০ মিনিট আগে শুরু হবে। মেক্সিকোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান প্রায় ১৬ মিনিট ৩০ সেকেন্ড দীর্ঘ হবে, আর যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার অনুষ্ঠান হবে প্রায় ১৩ মিনিটের।

মেক্সিকোর উদ্বোধনী আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচের আগে সেখানে সংগীত পরিবেশনা হবে। অন্যদিকে কানাডার টরন্টোতেও স্বাগতিক দলের প্রথম ম্যাচের আগে বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

নিচে তিন আয়োজক দেশের উদ্বোধনী আয়োজনের প্রধান পারফর্মারদের তালিকা তুলে ধরা হলো—

দেশভেন্যুপ্রধান পারফর্মার
যুক্তরাষ্ট্রসোফাই স্টেডিয়াম, লস অ্যাঞ্জেলেসকেটি পেরি, লিসা, ডিজে সঞ্জয়
কানাডাটরন্টোমাইকেল বুবলে, অ্যালানিস মরিসেট, আলেসিয়া কারা
মেক্সিকোঅ্যাজটেকা স্টেডিয়ামমানা, আলেহান্দ্রো ফার্নান্দেজ, বেলিন্দা

ফিফা জানিয়েছে, বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আয়োজনগুলো শুধু ফুটবল নয়, বরং আয়োজক দেশগুলোর সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও বৈশ্বিক সংগীতধারাকেও তুলে ধরবে। এ কারণে বিভিন্ন মহাদেশের শিল্পীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। আয়োজকদের লক্ষ্য, প্রতিটি অনুষ্ঠানকে স্থানীয় সংস্কৃতি ও আন্তর্জাতিক বিনোদনের সমন্বয়ে একটি বৈশ্বিক আয়োজন হিসেবে উপস্থাপন করা।