মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলায় হত্যা, ধর্ষণ, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম ফয়সাল তালুকদার। তার বিরুদ্ধে মোট ১৭টি মামলা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে থানা পুলিশের পক্ষ থেকে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গ্রেফতারের বিষয়টি জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে খুঁজছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, ফয়সাল তালুকদার কালকিনি উপজেলার পূর্ব এনায়েতনগর ইউনিয়নের কালাই সরদারের চর গ্রামের বজলু তালুকদারের ছেলে। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে উপজেলার অন্তত পাঁচটি ইউনিয়নে প্রভাব বিস্তার করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তিনি বিভিন্ন সময়ে হত্যা, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ডাকাতি ও চুরির মতো অপরাধে জড়িত ছিলেন। এসব ঘটনায় একাধিক মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে তার বিরুদ্ধে এক প্রবাসীর স্ত্রীর প্রতি ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তাহীনতার কারণে এলাকা ছেড়ে চলে যায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। এছাড়া একই এলাকায় এক চা দোকানির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাতেও স্থানীয়দের মধ্যে তার সম্পৃক্ততা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ পায়, যদিও এ বিষয়ে তদন্তাধীন অবস্থার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, ফয়সাল তালুকদার দীর্ঘদিন ধরে গ্রেফতার এড়াতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছিলেন। অবশেষে নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়।
মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান জানান, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে থাকা ১৭টি মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি তার সহযোগী ও সম্ভাব্য নেটওয়ার্ক শনাক্ত করার জন্য আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে।
গ্রেফতার সংক্রান্ত তথ্যগুলো নিচের সারণিতে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম | ফয়সাল তালুকদার |
| পিতার নাম | বজলু তালুকদার |
| গ্রাম | কালাই সরদারের চর |
| ইউনিয়ন | পূর্ব এনায়েতনগর |
| উপজেলা | কালকিনি, মাদারীপুর |
| মোট মামলা সংখ্যা | ১৭টি |
| অভিযোগসমূহ | হত্যা, ধর্ষণ, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজি |
| গ্রেফতারের তারিখ | ৭ মে (বৃহস্পতিবার) |
| তদন্ত অবস্থা | চলমান |
| পুলিশের বক্তব্য | সহযোগী শনাক্ত ও তদন্ত অব্যাহত |
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধ দমন কার্যক্রম জোরদার করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।