জিন তাড়ানোর নামে কিশোরী ধর্ষণ

বগুড়া শহরে আধ্যাত্মিক চিকিৎসার নামে ‘জিন তাড়ানোর’ অজুহাতে এক মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (দাখিল) পরীক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক কথিত কবিরাজের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং ভুয়া আধ্যাত্মিক চিকিৎসার নামে প্রতারণা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম হাকিম রেজাউল করিম (৪০)। তিনি বগুড়া শহরের নামাজগড় এলাকায় ভান্ডারী মসজিদ সংলগ্ন একটি প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে ঝাড়ফুঁক ও কথিত আধ্যাত্মিক চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। প্রতিষ্ঠানটির নাম ‘আশ-সিফা দাওয়া খানা’।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরীকে ‘জিনের প্রভাব’ রয়েছে বলে দাবি করেন অভিযুক্ত। এরপর তিনি ঝাড়ফুঁক ও চিকিৎসার কথা বলে তাকে তার প্রতিষ্ঠানের একটি কক্ষে নিয়ে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় কক্ষটি বাইরে থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং অন্যদের সেখান থেকে চলে যেতে বলা হয়। এরপর কিশোরীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, একই দিনে বিকেলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছ থেকে ১৬ হাজার ৫০০ টাকা গ্রহণ করেন। এরপর পুনরায় কিশোরীকে তার প্রতিষ্ঠানে নিয়ে আসতে বলা হয়। পরিবার সদস্যরা সেখানে গেলে আবারও একই ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী কিশোরী কান্নাজড়িত অবস্থায় পরিবারের সদস্যদের কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর পরিবার স্থানীয়দের সঙ্গে পরামর্শ করে বগুড়া সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।

পুলিশ অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত অভিযান চালিয়ে গত মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে বগুড়া শহরের নামাজগড় এলাকা থেকে হাকিম রেজাউল করিমকে গ্রেপ্তার করে। পরে ভুক্তভোগী কিশোরীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করা হয়। বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য নিচে উপস্থাপন করা হলো—

বিষয়বিবরণ
অভিযুক্তের নামহাকিম রেজাউল করিম
বয়স৪০ বছর
পেশাকবিরাজি ও ঝাড়ফুঁক চিকিৎসা
প্রতিষ্ঠানআশ-সিফা দাওয়া খানা
ঘটনার স্থাননামাজগড়, বগুড়া শহর
অভিযোগজিন তাড়ানোর অজুহাতে ধর্ষণ
গ্রেপ্তারের তারিখ৫ মে (মঙ্গলবার রাত)
বর্তমান অবস্থাপুলিশ হেফাজতে, তদন্তাধীন

বগুড়া সদর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি আইন অনুযায়ী পরবর্তী সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষ আধ্যাত্মিক চিকিৎসার নামে গড়ে ওঠা অবৈধ ও অস্বচ্ছ কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। বিশেষ করে দুর্বল ও অসচেতন মানুষের সুযোগ নিয়ে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে কঠোর নজরদারির দাবি উঠেছে।