চট্টগ্রাম মহানগরীর ইপিজেড থানা এলাকায় পুলিশি অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট, গাঁজা এবং মাদক বিক্রয়লব্ধ নগদ অর্থসহ এক পেশাদার মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ২০২৬ সালের ৫ মে, মঙ্গলবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ নিজাম ওরফে নেজাম (৩২), যিনি দীর্ঘদিন ধরে বন্দর ও সংলগ্ন এলাকায় মাদক সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
Table of Contents
অভিযানের বিস্তারিত ও উদ্ধারকৃত মালামাল
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) বন্দর জোনের অধীনস্থ ইপিজেড থানা সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আতিকুর রহমানের সরাসরি নেতৃত্বে একটি বিশেষ আভিযানিক দল গঠন করা হয়। দলটির কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য ছিল যে, ইপিজেড থানাধীন মাদ্রাজী শাহ পাড়া এলাকার ‘সাগর ভিলা’ নামক একটি ভবনে মাদকের একটি বড় চালান মজুদ করা হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সদস্যরা ভবনটির চতুর্থ তলার একটি নির্দিষ্ট কক্ষে আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় কক্ষের ভেতর থেকে মোহাম্মদ নিজামকে আটক করা সম্ভব হয়। পরবর্তীকালে কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে নিম্নোক্ত মালামাল উদ্ধার করা হয়:
ইয়াবা ট্যাবলেট: মোট ২ হাজার ২০০টি নিষিদ্ধ ইয়াবা ট্যাবলেট।
গাঁজা: ৫ কেজি ওজনের উচ্চমাত্রার গাঁজা।
নগদ অর্থ: মাদক বিক্রির মাধ্যমে অর্জিত নগদ ৭০ হাজার ৭২০ টাকা।
যানবাহন: মাদকদ্রব্য পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত একটি অ্যাপাচি আরটিআর (Apache RTR) মডেলের মোটরসাইকেল।
অভিযুক্তের পরিচয় ও অপরাধমূলক ইতিহাস
গ্রেফতারকৃত মোহাম্মদ নিজাম বন্দরটিলা এলাকার বাসিন্দা হলেও তিনি এলাকা পরিবর্তন করে বিভিন্ন ভাড়া বাসায় মাদকের আস্তানা গড়ে তুলতেন। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও রেকর্ড পর্যালোচনায় জানা গেছে, নিজাম একজন তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি। তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগরীর বন্দর এবং ইপিজেড থানায় ইতিপূর্বে দায়েরকৃত অস্ত্র ও মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনের একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। মূলত কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি পুনরায় সংগঠিত হয়ে মাদক কারবার চালিয়ে যাচ্ছিলেন বলে পুলিশের দাবি।
আইনগত ব্যবস্থা ও পুলিশের বক্তব্য
অভিযান সফলভাবে সমাপ্ত হওয়ার পর ইপিজেড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আতিকুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে এই নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক কারবারি নিজামকে গ্রেফতারের ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ইপিজেড থানায় একটি নতুন মামলা রুজু করা হয়েছে।
ওসি আরও যোগ করেন যে, গ্রেফতারকৃত আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এই মাদক চালানের নেপথ্যে থাকা গডফাদারদের শনাক্ত করতে এবং নগরের বন্দর ও ইপিজেড এলাকাকে মাদকসাশ্রয়ী করার লক্ষে পুলিশের এই বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় প্রভাব ও বর্তমান পরিস্থিতি
বন্দর ও ইপিজেড সংলগ্ন এলাকাগুলো ঘনবসতিপূর্ণ এবং শিল্পাঞ্চল হওয়ায় মাদক কারবারিরা এসকল এলাকায় তাদের কার্যক্রম বিস্তার করার চেষ্টা করে। স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, নিজামের মতো চিহ্নিত অপরাধীদের গ্রেফতারের ফলে এলাকায় অপরাধ প্রবণতা হ্রাস পাবে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে মাদক সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য দিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাদকের এই বড় চালানের উৎস এবং গন্তব্য নিশ্চিত হতে তদন্ত চলমান রয়েছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল ব্যবহার করে শহরের অভ্যন্তরীণ এলাকাগুলোতে যেভাবে মাদক সরবরাহ করা হচ্ছে, তা প্রতিরোধে চেকপোস্টগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
