টাঙ্গাইলে ডাকাতির প্রস্তুতিতে সংঘবদ্ধ চারজন গ্রেপ্তার পুলিশের অভিযানে

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে সংঘবদ্ধ একটি চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানে তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দেশীয় বিভিন্ন অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

গত সোমবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ঘাটান্দি নতুন পাড়া এলাকার নজরুল ইসলামের বাড়ির নিচতলায় এ ঘটনা ঘটে। ওই স্থানে একত্রিত হয়ে তারা ডাকাতির পরিকল্পনা করছিল বলে জানা যায়। এ সময় ভূঞাপুর থানার পুলিশ সদস্যরা দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে চারজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেন। অভিযানে নেতৃত্ব দেন দুইজন উপপরিদর্শকসহ সঙ্গীয় ফোর্স।

পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে গ্রেপ্তারকৃতদের সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে। পরে ঘটনাস্থল থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহারের জন্য রাখা বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— গোপালপুর উপজেলার ভোলারপাড়া গ্রামের আহসান আলী আকন্দের ছেলে রবিউল (৩৮), ভূঞাপুর উপজেলার কুকাদাইর গ্রামের গোলাম হোসেনের ছেলে মনির ওরফে ন্যাংড়া মনির (৩৮), কালিহাতী উপজেলার শ্যামশৈল গ্রামের শামছুল হকের ছেলে শাহ আলম (৪৫) এবং একই গ্রামের আ. আজিজের ছেলে মাসুদ (৩২)।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ডাকাতির পরিকল্পনার বিষয়টি স্বীকার করেছে। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, দস্যুতা, মাদক এবং অন্যান্য ফৌজদারি মামলার তথ্য রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

অভিযানে উদ্ধার হওয়া সরঞ্জামের মধ্যে লোহার কাটার, কাটিং প্লাস, শিকল, কাঁচি, সুইচ গিয়ার, চাকু ও চাপাতি উল্লেখযোগ্য। এসব সরঞ্জাম ডাকাতির সময় বাড়ির দরজা-জানালা ভাঙা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের কাজে ব্যবহার করা হয় বলে ধারণা করা হয়।

গ্রেপ্তার ও উদ্ধার সংক্রান্ত তথ্যের সারসংক্ষেপ নিচের সারণিতে উপস্থাপন করা হলো—

নামবয়সপিতার নামগ্রামউপজেলা
রবিউল৩৮আহসান আলী আকন্দভোলারপাড়াগোপালপুর
মনির (ন্যাংড়া মনির)৩৮গোলাম হোসেনকুকাদাইরভূঞাপুর
শাহ আলম৪৫শামছুল হকশ্যামশৈলকালিহাতী
মাসুদ৩২আ. আজিজশ্যামশৈলকালিহাতী

ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাব্বির রহমান জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি পালিয়ে যাওয়া অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিল। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে তাদের নেটওয়ার্ক ও অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্তের চেষ্টা করছে।