কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে পশুর চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে শৃঙ্খলা আনতে নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার। প্রতিবছর চামড়ার ন্যায্য মূল্য না পাওয়া, মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব এবং সংরক্ষণ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে যে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়, তা কমাতে এবার আগাম প্রস্তুতি, সমন্বিত উদ্যোগ এবং প্রশাসনিক তৎপরতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং কোরবানির চামড়া সংরক্ষণ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। একই সঙ্গে দেশের বন্ধ ও সমস্যাগ্রস্ত শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগকে সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। উৎপাদন বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যকে সামনে রেখে শিল্প খাত পুনরুজ্জীবনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব তথ্য জানান। এর আগে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জেলা প্রশাসকদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে স্থানীয় বাস্তবতার ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।
মন্ত্রী জানান, বস্ত্র ও পাট খাতের প্রায় পঞ্চাশটি বন্ধ ও সমস্যাগ্রস্ত কারখানা ধাপে ধাপে বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে, উৎপাদন সক্ষমতা বাড়বে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী এক বছরের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসকদের পক্ষ থেকে শিল্প পুনরুজ্জীবন, নতুন শিল্পাঞ্চল স্থাপন, বন্ধ চিনিকল পুনরায় চালু এবং ডিস্টিলারি স্থাপনের মতো একাধিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সরকার এসব প্রস্তাব গুরুত্ব সহকারে পর্যালোচনা করছে বলে জানানো হয়।
বাজার ব্যবস্থাপনায় কাঠামোগত পরিবর্তনের অংশ হিসেবে উৎপাদক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত দামের ব্যবধান কমাতে প্রযুক্তিনির্ভর সরবরাহ শৃঙ্খলা পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে আমদানি, মজুত, পাইকারি এবং খুচরা পর্যায়ের প্রতিটি ধাপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। এতে বাজারে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে এবং অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে।
আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার প্রভাব মোকাবিলায় কৌশলগত মজুত গঠনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটলেও দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে প্রয়োজনীয় পণ্যের ঘাটতি এড়ানো এবং মূল্য স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে।
চামড়া ব্যবস্থাপনায় বিশেষ কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত লবণ সরবরাহ নিশ্চিত করা, সচেতনতামূলক প্রচারপত্র বিতরণ এবং গণমাধ্যমে প্রচারণা চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোরবানির পরবর্তী সাত দিন চামড়া পরিবহন নিয়ন্ত্রণে রাখার সিদ্ধান্তও গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে স্থানীয় পর্যায়ে যথাযথ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা যায়।
নিচে প্রধান সিদ্ধান্তসমূহ সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | গৃহীত সিদ্ধান্ত |
|---|---|
| চামড়া সংরক্ষণ | প্রশিক্ষণ, লবণ সরবরাহ, প্রচার কার্যক্রম |
| পরিবহন ব্যবস্থা | কোরবানির পর সাত দিন নিয়ন্ত্রিত পরিবহন |
| শিল্প পুনরুজ্জীবন | বন্ধ কারখানা ধাপে ধাপে বেসরকারি খাতে হস্তান্তর |
| বাজার নিয়ন্ত্রণ | প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু |
| কৌশলগত মজুত | প্রয়োজনীয় পণ্যের মজুত গঠন |
মন্ত্রী আরও জানান, জেলা প্রশাসকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাজার ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করা হবে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রেখে ভোক্তার স্বার্থ রক্ষা নিশ্চিত করা হবে।
