হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার এক যুবককে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়ায় নিয়ে গিয়ে জিম্মি করে নির্যাতন ও বিপুল অঙ্কের মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে একটি মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার মানবপাচার আইনে মামলা করেছে এবং বিষয়টি বর্তমানে অপরাধ তদন্ত বিভাগ তদন্ত করছে।
পরিবার ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের বেতাপুর গ্রামের বাসিন্দা আবু তাহের চৌধুরীর ছেলে রায়হান চৌধুরী (৩০) পূর্বপরিচিত কয়েকজনের মাধ্যমে বিদেশ যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। অভিযুক্ত শামীমসহ একটি দালাল চক্র তাকে ইতালিতে বিনা খরচে বা ফ্রি ভিসায় পাঠানোর আশ্বাস দেয়। তাদের কথায় বিশ্বাস করে রায়হান বিদেশযাত্রার প্রস্তুতি নেন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দালালদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তীতে দালাল চক্র জানায় যে ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এই অজুহাতে বিভিন্ন সময়ে রায়হানের পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ১২ লাখ টাকা নেওয়া হয়। পরে আরও অর্থ গ্রহণের পর রায়হানকে প্রথমে ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে পাঠানো হয়। সেখান থেকে তাকে মিসর হয়ে লিবিয়ায় নেওয়া হয়।
তবে ইতালিতে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়ার পর তাকে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ। সেখানে রায়হানের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো শুরু হয়। পরিবারের দাবি, পরে দালাল চক্র ফোন করে অতিরিক্ত ১৫ লাখ টাকা দাবি করে। ছেলেকে উদ্ধারের আশায় পরিবার জমি ও স্বর্ণ বিক্রি করে ওই অর্থ পরিশোধ করে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, টাকা আদায়ের চাপ সৃষ্টি করতে ভিডিও কলে রায়হানের ওপর নির্যাতনের দৃশ্য দেখানো হয়। পরিবারকে জানানো হয়, তার একটি আঙুল কেটে ফেলা হয়েছে। এতকিছুর পরও রায়হানকে মুক্তি দেওয়া হয়নি বলে পরিবারের অভিযোগ।
পরিবারের দাবি অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত মোট ২৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এরপরও আরও ২৫ লাখ টাকা দাবি করা হচ্ছে। টাকা পরিশোধ না করলে রায়হানের হাতের কবজি কেটে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও পরিবারের অভিযোগ।
চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি রায়হানের বাবা আবু তাহের চৌধুরী নবীগঞ্জ থানায় মানবপাচার আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। তবে মামলার পর থেকে গত ৪২ দিন ধরে রায়হানের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তিনি।
রায়হানের বাবা বলেন, মামলা দায়েরের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ভিডিও কলে ছেলের ওপর নির্যাতনের দৃশ্য দেখানো হয়েছে এবং একটি আঙুল কেটে ফেলার কথাও জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোনায়েম মিয়া জানিয়েছেন, মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে সংস্থাটি বিষয়টি তদন্ত করছে।
ঘটনার সারসংক্ষেপ
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ভুক্তভোগী | রায়হান চৌধুরী (৩০) |
| বাড়ি | বেতাপুর গ্রাম, আউশকান্দি ইউনিয়ন, নবীগঞ্জ |
| প্রলোভন | ইতালিতে ফ্রি ভিসা |
| নেওয়া অর্থ | প্রথমে প্রায় ১২ লাখ টাকা |
| অতিরিক্ত মুক্তিপণ | ১৫ লাখ টাকা |
| মোট প্রদত্ত অর্থ | ২৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা |
| নতুন দাবি | আরও ২৫ লাখ টাকা |
| মামলা দায়ের | ১৫ ফেব্রুয়ারি |
| বর্তমান অবস্থা | ৪২ দিন ধরে নিখোঁজ |
| তদন্তকারী সংস্থা | অপরাধ তদন্ত বিভাগ |