গাজীপুরে হামে দুই শিশুর মৃত্যু

গাজীপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ দুটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এ ঘটনায় জেলায় শিশুদের মধ্যে সংক্রামক রোগের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

মৃত দুই শিশুর একজন গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তা এলাকার বাসিন্দা জাকির হোসেনের ছেলে মো. রাইয়ান, বয়স ৯ মাস। অপরজন শ্রীপুর উপজেলার মাওনা এলাকার খোকন মিয়ার ছেলে মো. সিফাত, বয়স ৫ মাস। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, উভয় শিশুই জ্বর, সর্দি, কাশি এবং শরীরে ফুসকুড়ি–জাতীয় উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। চিকিৎসকরা তাদের হামের সম্ভাব্য রোগী হিসেবে পর্যবেক্ষণে রেখেছিলেন। তবে পরীক্ষাগারে সংক্রমণ চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হওয়ার আগেই তাদের মৃত্যু ঘটে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সকাল পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই দুটি মৃত্যু ঘটে। একই সময়ে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আরও শিশু ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে গাজীপুরের বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে মোট ৪৭ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে, যার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছে ২১ জন।

শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক জানিয়েছেন, মৃত দুই শিশুই হাসপাতালে আসার সময় গুরুতর অবস্থায় ছিল। দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া হলেও তাদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। পরীক্ষার আগেই তাদের মৃত্যু হওয়ায় সংক্রমণের ধরন আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

গাজীপুরের সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, জেলায় এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৫৯১ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছে। এর মধ্যে ১৩১ জনের ক্ষেত্রে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বাস্থ্য বিভাগ সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছে এবং আক্রান্তদের আলাদা রেখে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা সাধারণত শিশুদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। রোগটির প্রধান লক্ষণ হিসেবে জ্বর, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা যায়। সময়মতো চিকিৎসা ও টিকা গ্রহণ না করলে এটি নিউমোনিয়া বা অন্যান্য জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে, যা প্রাণঘাতীও হতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতির একটি সারসংক্ষেপ নিচে দেওয়া হলো—

বিষয়সংখ্যা
মোট উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে৫৯১ জন
সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে১৩১ জন
বর্তমানে চিকিৎসাধীন রোগী৪৭ জন
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি২১ জন
মোট মৃত্যুর ঘটনা২ জন

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নিয়মিত টিকা গ্রহণ, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং আক্রান্তদের আলাদা রেখে চিকিৎসা প্রদান করলে এ ধরনের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগও পরিস্থিতি মোকাবিলায় নজরদারি বাড়িয়েছে এবং অভিভাবকদের শিশুদের প্রতি বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে।