বৈশাখী মেলায় কিশোর হত্যা

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলায় বৈশাখী মেলার আনন্দঘন পরিবেশ মুহূর্তেই রূপ নেয় শোক ও সহিংসতায়। তুচ্ছ কথা-কাটাকাটির জেরে মো. সিয়াম (১৫) নামের এক স্কুলছাত্রকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর উপজেলার পদুরবাড়ী মাঠে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী বৈশাখী মেলায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত কিশোরের মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সিয়াম উপজেলার শিবপুর গ্রামের আবদুস সালামের ছেলে। সে স্থানীয় মানকোন উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সিয়াম ছিল শান্ত স্বভাবের ও পড়াশোনায় মনোযোগী একজন কিশোর। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় সে বন্ধুদের সঙ্গে মেলায় ঘুরতে যায়। কিন্তু সেই আনন্দঘন সময়ই পরিণত হয় ভয়াবহ ট্র্যাজেডিতে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মেলার ভেতরে সিয়াম ও তার কয়েকজন বন্ধুর মধ্যে সামান্য কথাবার্তা নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মিটমাট হয়ে যায় বলে জানা যায়। কিন্তু কিছু সময় পর মেলার এক নির্জন অংশে সিয়ামকে একা পেয়ে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে বেধড়ক মারধর করে। এতে সে গুরুতর আহত হয়।

স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ময়মনসিংহ চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে শুক্রবার ভোর চারটার দিকে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় ইতিমধ্যে রামনাথ বাড়ি গ্রামের মান্নানের ছেলে মো. নাজমুল (৩৫) এবং ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ঘটনার সংক্ষিপ্ত সময়রেখা

সময়ঘটনা
সন্ধ্যা সাড়ে সাতটাসিয়াম বন্ধুদের সঙ্গে মেলায় যায়
কিছুক্ষণ পরকথাকাটাকাটি থেকে হাতাহাতি
পরেস্থানীয়ভাবে সমঝোতা
রাতের দিকেমেলার এক পাশে সিয়ামের ওপর হামলা
রাতগুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া
ভোর চারটাঢাকায় নেওয়ার পথে মৃত্যু

মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, দুই এলাকার তরুণদের মধ্যে পূর্ব বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মেলার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঘাটতি ছিল, যার সুযোগে এমন নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। তারা ভবিষ্যতে মেলায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও নজরদারি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে পুলিশ বলছে, দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিহত সিয়ামের পরিবার ন্যায়বিচার দাবি করেছে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চেয়েছে।