নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় কাঁচপুর সেতুর একটি পিলারের নিচে অত্যন্ত কৌশলে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে সেতুর পশ্চিম পাশের বালুরগদি সংলগ্ন এলাকায় নিয়মিত টহল ও বিশেষ নজরদারির অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রথমে ওই এলাকায় সন্দেহজনক কার্যকলাপের তথ্য পাওয়া যায়। এরপর বিষয়টি দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে যৌথভাবে একটি বিশেষ তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের উপস্থিতিতে সেতুর পিলারের নিচের অংশে দীর্ঘক্ষণ অনুসন্ধানের পর একটি পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। ওই ব্যাগের ভেতরে ছিল বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এসব অস্ত্র ও সরঞ্জাম সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের ব্যবহারের জন্য এখানে মজুত রাখা হয়েছিল। বিশেষ করে এগুলো দিয়ে অবৈধভাবে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি বা সরবরাহের পরিকল্পনা থাকতে পারে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মনে করছে। তবে কারা এই অস্ত্র লুকিয়ে রেখেছিল এবং এর পেছনে কোনো সংগঠিত চক্র জড়িত আছে কি না, তা উদঘাটনে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
উদ্ধারকৃত সামগ্রী পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে পাওয়া আলামতগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানোর প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
উদ্ধারকৃত সামগ্রীর বিবরণ
| ক্রমিক | উদ্ধারকৃত সামগ্রী | পরিমাণ/বর্ণনা |
|---|---|---|
| ১ | দেশীয় একনলা আগ্নেয়াস্ত্র | ৬টি |
| ২ | শটগানের গুলি | ১টি |
| ৩ | অস্ত্র তৈরির যন্ত্রাংশ | বিভিন্ন ধরণের সরঞ্জাম |
| ৪ | সংরক্ষণ ব্যাগ | ১টি প্লাস্টিক ব্যাগ |
অভিযানে অংশ নেওয়া এক কর্মকর্তা জানান, নিয়মিত টহলের অংশ হিসেবেই ওই এলাকায় নজরদারি চলছিল। গোপন তথ্য পাওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় একটি সম্ভাব্য বড় ধরনের অপরাধমূলক পরিকল্পনা নস্যাৎ করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও বলেন, উদ্ধারকৃত সরঞ্জামগুলো দীর্ঘদিন ধরে গোপনে সংরক্ষিত ছিল বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ সেতু, অবকাঠামো ও জনবহুল এলাকায় অপরাধীরা যাতে অস্ত্র বা অবৈধ সামগ্রী লুকিয়ে রাখতে না পারে, সে জন্য নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে রাত্রীকালীন টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে এ ঘটনায় কিছুটা আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য তৈরি হলেও দ্রুত অভিযান পরিচালনা এবং অস্ত্র উদ্ধারের কারণে বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন তারা। এখন পুরো এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে এই অস্ত্রচক্রের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
