জমি বিরোধে সৎবাবাকে হত্যা

ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন শাক্তা ইউনিয়নের গোয়ালখালী গ্রামে জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ অবশেষে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সৎছেলের ছুরিকাঘাতে ৭০ বছর বয়সী মো. শাহী ইসলাম নিহত হয়েছেন। এ মর্মান্তিক ঘটনাকে ঘিরে পুরো এলাকায় শোকের পাশাপাশি তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত শাহী ইসলাম ওই গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে। পারিবারিক জীবনে তিনি একাধিকবার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তার বর্তমান স্ত্রী নাজমা বেগমের আগের সংসারের সন্তান আলামিন (২৬) দীর্ঘদিন ধরে তাদের সঙ্গেই বসবাস করছিলেন। পরিবারটির ভেতরে জমির মালিকানা ও ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল বলে স্থানীয়রা জানান। ধীরে ধীরে এই বিরোধ পারিবারিক সম্পর্ককে চরমভাবে বিষিয়ে তোলে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন ভোর আনুমানিক পাঁচটার দিকে শাহী ইসলাম ও তার সৎছেলে আলামিন একই ঘরে অবস্থান করছিলেন। পূর্বের বিরোধের জেরে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়, যা এক পর্যায়ে তীব্র ঝগড়া ও হাতাহাতিতে রূপ নেয়। উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই আলামিন ধারালো অস্ত্র দিয়ে শাহী ইসলামের পেটে আঘাত করেন। গুরুতর আঘাতে তিনি ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা যান।

ঘটনার পর নিহতের আর্তনাদ শুনে পাশের ঘরে থাকা স্ত্রী নাজমা বেগম এবং তার দুই মেয়ে দ্রুত সেখানে ছুটে যান। তারা শাহী ইসলামকে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার শুরু করেন। তাদের চিৎকারে আশপাশের প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে এসে ভয়াবহ দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি সম্পর্কে জানাজানি হয়।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ইউপি সদস্য রহিম খান দ্রুত জাতীয় জরুরি সেবায় যোগাযোগ করে পুলিশকে খবর দেন। এ সময় এলাকাবাসীর সহায়তায় অভিযুক্ত আলামিনকে ঘটনাস্থলেই আটক করা হয়। পরে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত বিরোধ এবং পারিবারিক টানাপোড়েনই এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়।

ঘটনার সারসংক্ষেপ

বিষয়বিবরণ
নিহত ব্যক্তিমো. শাহী ইসলাম (৭০)
অভিযুক্তআলামিন (২৬), সৎছেলে
স্থানগোয়ালখালী গ্রাম, শাক্তা ইউনিয়ন
সময়ভোর আনুমানিক পাঁচটা
ঘটনার কারণজমি ও পারিবারিক বিরোধ
ঘটনার ধরনছুরিকাঘাতে হত্যা
আইনগত অবস্থাঅভিযুক্ত আটক, মামলা প্রক্রিয়াধীন

পরবর্তীতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। কেরানীগঞ্জ মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা জানান, নিহতের স্ত্রী নাজমা বেগম বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পুলিশ পুরো ঘটনার গভীর ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চালাচ্ছে।

এদিকে এমন নৃশংস পারিবারিক হত্যাকাণ্ডে এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা বলছেন, জমি ও সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিরোধ কীভাবে একটি পরিবারকে ধ্বংস করে দিতে পারে, এই ঘটনা তারই করুণ