ভারতের মধ্যপ্রদেশের জব্বলপুরে নর্মদা নদীতে প্রমোদতরী ডুবে অন্তত নয়জনের প্রাণহানির ঘটনায় শোক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার সংঘটিত এ দুর্ঘটনা স্থানীয় পর্যটন নিরাপত্তা ও নৌযান ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। দুর্ঘটনার পর উদ্ধার অভিযানে প্রশাসন, পুলিশ, দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরা অংশ নেন।
স্থানীয় প্রশাসনের প্রাথমিক তথ্যে জানা যায়, নর্মদা নদীতে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে যাত্রীবাহী একটি বিনোদনমূলক নৌকা দুপুরের পর নদীর মাঝামাঝি এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটে। প্রবল বাতাসের সঙ্গে নদীতে ঢেউয়ের উচ্চতা বেড়ে গেলে নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। পরে এটি একপাশে কাত হয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যে ডুবে যায়। নৌকাটিতে আনুমানিক ৩৫ থেকে ৪০ জন যাত্রী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়। ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে যায় স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল। সন্ধ্যার পর অন্ধকার নেমে এলেও অভিযান থামানো হয়নি। নদীতে আলোকসজ্জা, স্পিডবোট এবং অনুসন্ধানী সরঞ্জাম ব্যবহার করে রাতভর তল্লাশি চালানো হয়।
উদ্ধারকাজ চলাকালে এক নারী ও তার চার বছর বয়সী সন্তানের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উদ্ধারকারীরা দেখতে পান, মা নিজের লাইফ জ্যাকেটের ভেতরে সন্তানকে শক্তভাবে জড়িয়ে রেখেছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, দুর্ঘটনার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি সন্তানকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন। ঘটনাটি উদ্ধারকর্মী ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি করে।
নিহতদের স্বজনেরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন। মধ্যপ্রদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন রাজ্যের মন্ত্রী রাকেশ সিং। তিনি বলেন, দুর্ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে সরকার রয়েছে।
মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, নৌযান পরিচালনার অনুমতি, নিরাপত্তা সরঞ্জাম এবং যাত্রীসংখ্যা সংক্রান্ত নথি যাচাই করা হবে।
এদিকে, বেঁচে ফেরা কয়েকজন যাত্রী অভিযোগ করেছেন, নৌকায় পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট ছিল না এবং ধারণক্ষমতার তুলনায় বেশি যাত্রী বহন করা হচ্ছিল। এ অভিযোগের পর স্থানীয় প্রশাসন নৌপথে পর্যটন পরিচালনায় নিরাপত্তা বিধি আরও কঠোরভাবে প্রয়োগের আশ্বাস দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের নদীপথে পর্যটন বাড়লেও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিটি নৌযানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জাম, নিয়মিত যান্ত্রিক পরীক্ষা এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস যাচাই বাধ্যতামূলক না করলে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঠেকানো কঠিন হবে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| দুর্ঘটনার স্থান | নর্মদা নদী, জব্বলপুর, মধ্যপ্রদেশ |
| দুর্ঘটনার ধরন | প্রমোদতরী ডুবে যাওয়া |
| যাত্রী সংখ্যা | প্রায় ৩৫-৪০ জন |
| নিহত | অন্তত ৯ জন |
| উল্লেখযোগ্য ঘটনা | মা সন্তানকে লাইফ জ্যাকেটের ভেতর জড়িয়ে রেখেছিলেন |
| সরকারি পদক্ষেপ | তদন্তের নির্দেশ ও আর্থিক সহায়তার ঘোষণা |
নর্মদা নদীর এ দুর্ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে, নদীপথে পর্যটন সম্প্রসারণের পাশাপাশি নিরাপত্তা মান নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
