উখিয়ার আশ্রয়শিবিরে জলাশয় থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির এলাকার একটি জলাশয় থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে তাজনিমারখোলা আশ্রয়শিবিরের (ক্যাম্প-২০ বর্ধিত অংশ) এস-৪ ও বি-৭ ব্লকের মাঝামাঝি স্থানে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দা ও শিবিরে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করে।

নিহত নারীর নাম মরজান বেগম (৩৩)। তিনি বালুখালী আশ্রয়শিবিরের (ক্যাম্প-১৯) বাসিন্দা নুর মোহাম্মদের মেয়ে। পারিবারিক তথ্য অনুযায়ী, প্রায় দশ বছর আগে তাঁর বিয়ে হয় হাশেম উল্লাহ নামের এক রোহিঙ্গা যুবকের সঙ্গে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার সন্ধ্যা থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

স্থানীয় রোহিঙ্গা নেতা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক সোয়া আটটার দিকে কয়েকজন রোহিঙ্গা বাসিন্দা শিবিরের একটি জলাশয়ের পানিতে বোরকা পরা এক নারীর মরদেহ ভাসতে দেখেন। পরে তারা বিষয়টি দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে আশ্রয়শিবিরে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বিশেষ সশস্ত্র পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে স্থানীয় রোহিঙ্গা নারীদের সহায়তায় জলাশয় থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

ঘটনাস্থলটি শিবিরের অভ্যন্তরে দুইটি ব্লকের মাঝামাঝি হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয় এবং মরদেহটি পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য হস্তান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

ক্যাম্প কমান্ডার ও সহকারী পুলিশ সুপার আবু হানিফ জানিয়েছেন, নিহত নারী আশ্রয়শিবিরেরই বাসিন্দা। তাঁর মৃত্যু কীভাবে ঘটেছে এবং কীভাবে মরদেহ জলাশয়ে পৌঁছেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মুজিবুর রহমান বলেন, নিহত রোহিঙ্গা নারীর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি। ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ তদন্ত কার্যক্রম চালাচ্ছে। প্রাথমিক সুরতহাল শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার সংক্ষিপ্ত সময়রেখা

সময়ঘটনা
বুধবার সন্ধ্যামরজান বেগম নিখোঁজ হন
বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া আটটাজলাশয়ে মরদেহ ভাসতে দেখা যায়
সকাল সাড়ে আটটাআইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে
সকাল পরবর্তী সময়মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়
বিকেলমরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়

উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলোতে কয়েকটি ব্লক ও ঘনবসতিপূর্ণ বসবাস ব্যবস্থার কারণে নিরাপত্তা ও চলাচল নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ ধরনের ঘটনায় সাধারণত দ্রুত তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়ে থাকে।