জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলায় টানা চার দিন ধরে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় অন্তত পনেরোটি গ্রামের প্রায় ত্রিশ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। গত শনিবার গভীর রাতে সংঘটিত ভয়াবহ কালবৈশাখী ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ঝড়ের তীব্রতায় বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে পড়ে, বিদ্যুৎ তার ছিঁড়ে যায় এবং একাধিক স্থানে লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে পুরো অঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। চার দিন পার হলেও এখনো সম্পূর্ণভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক হয়নি।
বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী ও সাধারণ গৃহস্থরা। বিশেষ করে চলমান মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সন্ধ্যার পর পড়াশোনার কোনো সুযোগ না থাকায় তারা পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছে। পাশাপাশি মোবাইল ফোন চার্জ দিতে না পারা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়া এবং দৈনন্দিন গৃহস্থালি কাজকর্মে চরম অসুবিধা সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় এলাকাগুলোতে পানীয় জলের সংকটও দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক স্থানে গভীর নলকূপ ও মোটরচালিত পানির ব্যবস্থা বন্ধ রয়েছে। ফলে বিশুদ্ধ পানির জন্য মানুষকে দূর-দূরান্তে যেতে হচ্ছে। একই সঙ্গে ছোট দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাভাবিকভাবে চলতে না পারায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।
নিচে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র দেওয়া হলো—
| ইউনিয়ন | ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামসমূহ |
|---|---|
| কড়ইচড়া | ছালাবান্দা, ছোট ভাংবাড়ি, মহিষবাথান, পূর্ব মহিষবাথান, লালডোবা, পূর্ব নলছিয়া, ইলশামারী, চরগুজামানিকা, বাগলেরগড় |
| চরপাকেরদহ | দিকপাড়া |
| বালিজুড়ী | পূর্ব তারতাপাড়া |
| জোড়খালী | খিলকাটি পশ্চিমপাড়া |
| গুনারীতলা | উত্তর জোড়খালী, গুনারীতলা পূর্বপাড়া |
লালডোবা এলাকার বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম জানান, টানা চার দিন বিদ্যুৎ না থাকায় পুরো পরিবার চরম কষ্টে রয়েছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে শিক্ষার্থীরা। রাতের বেলায় পড়াশোনা করা সম্ভব হচ্ছে না এবং মোবাইল ফোন চার্জ না থাকায় জরুরি যোগাযোগও বন্ধ হয়ে গেছে। ফ্রিজে রাখা খাবার নষ্ট হয়ে আর্থিক ক্ষতিও হয়েছে বলে তিনি জানান।
পূর্ব তারতাপাড়া এলাকার জিহাদ আহমেদ বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় শুধু আলো-বাতি নয়, মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবাও বিঘ্নিত হয়েছে। এতে দৈনন্দিন জীবন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে খিলকাটি এলাকার বাসিন্দা কামরুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চার দিন পার হলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় জনমনে অসন্তোষ বাড়ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
একজন মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী রায়হান আহমেদ জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় তার পড়াশোনার প্রস্তুতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মোমবাতি ও চার্জার লাইট দিয়ে অল্প সময় পড়াশোনা করা গেলেও তা পর্যাপ্ত নয়।
জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাদারগঞ্জ জোনাল অফিসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, ঝড়ের কারণে একাধিক স্থানে গাছ উপড়ে পড়ে বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং কয়েকটি খুঁটি ভেঙে গেছে। মেরামত কাজ চলমান থাকলেও জনবল সংকট ও বৃষ্টির কারণে কিছু এলাকায় কাজ সম্পন্ন করতে বিলম্ব হচ্ছে। তবে বিদ্যুৎ সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক করতে কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের একমাত্র প্রত্যাশা দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনঃস্থাপন করা এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনা।
