উপমহাদেশের খ্যাতিমান গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার রচিত শেষ গানটির নাম ‘মেঘলা আকাশ’। এটি তাঁর জীবদ্দশায় লেখা শেষ গান হিসেবে বিবেচিত। গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন সমকালীন সংগীতশিল্পী ও সুরকার অপু আমান। গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন দিঠি আনোয়ার ও অপু আমান।
গানটির দৃশ্যরূপ নির্মাণের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে দিঠি আনোয়ার নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গানটি তাঁর পারিবারিক ও ব্যক্তিগত অনুভূতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার জীবিত অবস্থায় গানটির ধ্বনি ধারণ প্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করেছিলেন, যা এই সৃষ্টিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
দিঠি আনোয়ার আরও উল্লেখ করেন, তাঁর পিতা অপু আমানকে স্নেহ করতেন এবং নিজ উদ্যোগে তাঁকে একাধিক গানের সুর নির্মাণের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। ‘মেঘলা আকাশ’ সেই ধারাবাহিক সৃষ্টিগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাঁর মতে, গানটির সুর ও বাণীর সমন্বয় শ্রোতাদের মনে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে।
অপু আমান জানান, গাজী মাজহারুল আনোয়ারের মতো একজন প্রখ্যাত গীতিকারের রচনায় সুর নির্মাণ করার সুযোগ তাঁর সংগীত জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন। তিনি আরও বলেন, গীতিকার জীবিত থাকা অবস্থায় তাঁর সামনে বসে গানটির সুর নির্মাণের কাজ করার সুযোগ তিনি পেয়েছিলেন, যা তাঁর জন্য একটি বিরল অভিজ্ঞতা।
তিনি জানান, গানের বাণীর ভাব ও কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সুর নির্মাণে সর্বোচ্চ মনোযোগ দেওয়া হয়েছে, যাতে মূল বক্তব্য অক্ষুণ্ণ থাকে এবং সৃষ্টিটি স্বাভাবিকভাবে উপস্থাপিত হয়।
গানটি প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে দিঠি আনোয়ারের নতুন অনলাইন প্রকাশনা মাধ্যমে, যা আসন্ন ঈদের পূর্বে প্রকাশিত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য যে, গাজী মাজহারুল আনোয়ার ২০২২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর তাঁর পঞ্চাশতম বিবাহবার্ষিকীতে স্ত্রীসহ এই গানটি পরিবেশনের একটি পরিকল্পনা করেছিলেন। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত না হলেও ‘মেঘলা আকাশ’ গানটি সেই অপূর্ণ ইচ্ছার স্মৃতিকে বহন করছে।
গানের বিবরণ
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| গানের নাম | মেঘলা আকাশ |
| গীতিকার | গাজী মাজহারুল আনোয়ার |
| সুর ও সংগীত নির্মাণ | অপু আমান |
| কণ্ঠশিল্পী | দিঠি আনোয়ার, অপু আমান |
| দৃশ্যরূপ নির্মাণ | সম্পন্ন |
| প্রকাশ মাধ্যম | দিঠি আনোয়ারের অনলাইন প্রকাশনা |
| প্রকাশ সময় | আসন্ন ঈদের পূর্বে |
| বিশেষ প্রসঙ্গ | গীতিকারের জীবদ্দশায় শেষ রচনা |
এই গানটি গাজী মাজহারুল আনোয়ারের সৃষ্টিশীল জীবনের শেষ পর্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এতে তাঁর রচিত বাণী, সংগীতায়োজন এবং কণ্ঠশিল্পীদের পরিবেশনা একত্রে একটি পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক রূপ পেয়েছে, যা তাঁর সৃষ্টিকর্মের ধারাবাহিকতাকে তুলে ধরে।
