ঢাকার উত্তরা পূর্ব থানায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মাহমুদুল হাসান নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক ও বহিষ্কৃত কর্মকর্তা মো. আফজাল নাছেরকে আবারও দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২৭/০৪/২০২৬) পূর্ববর্তী চার দিনের রিমান্ড শেষে তাকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তদন্তের স্বার্থে তাকে আরও দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পূর্ব থানার উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ আশরাফুল আলম আদালতে আসামিকে পুনরায় সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ড আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম জাকির হোসেন এ আদেশ প্রদান করেন।
এর আগে একই মামলায় গত ২৩/০৪/২০২৬ তারিখে মো. আফজাল নাছেরকে প্রথম দফায় চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। চলমান তদন্ত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এ পর্যন্ত তাকে মোট ২৮ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে বলে মামলার নথি থেকে জানা যায়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি মিছিলে অংশ নেন মাহমুদুল হাসান। ওইদিন বিকাল প্রায় ৪টার দিকে উত্তরা পূর্ব থানার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের আজমপুর ফুট ওভারব্রিজের নিচে আন্দোলনকারীরা পৌঁছালে সেখানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় আসামি ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা অবৈধভাবে অস্ত্র নিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ করেন।
ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাহমুদুল হাসান গুরুতর আহত হন এবং পরে তাকে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরবর্তীতে নিহতের মামা বাদী হয়ে উত্তরা পূর্ব থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় মো. আফজাল নাছেরসহ অজ্ঞাতনামা একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।
চলমান তদন্ত ও রিমান্ড সংক্রান্ত ঘটনাপ্রবাহ নিম্নের সারণিতে উপস্থাপন করা হলো—
| তারিখ | ঘটনা |
|---|---|
| ৩০/০৩/২০২৬ | মিরপুর ডিওএইচএস এলাকা থেকে ডিবি পুলিশ কর্তৃক গ্রেপ্তার |
| ২৩/০৪/২০২৬ | প্রথম দফায় চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর |
| ২৭/০৪/২০২৬ | পূর্ববর্তী রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির ও নতুন করে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর |
মামলার নথি অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পর থেকে মো. আফজাল নাছেরকে একাধিক মামলায় দফায় দফায় রিমান্ডে নেওয়া হচ্ছে এবং তিনি বর্তমানে পৃথক হত্যা মামলাগুলোর তদন্তাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
