মালিতে বিদ্রোহী হামলায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিহত

মালিতে আল–কায়েদা সংশ্লিষ্ট একটি গোষ্ঠী এবং তুয়ারেগ বিদ্রোহীদের একাধিক সমন্বিত হামলায় দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল সাদিও কামারা নিহত হয়েছেন। সরকার জানিয়েছে, গত রোববার দেওয়া এক বিবৃতিতে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয় এবং বলা হয়, রাজধানী বামাকোর নিকটবর্তী কাতি সামরিক শহরে তাঁর বাসভবনকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।

সরকারি মুখপাত্র ইসা উসমান কুলিবালি জানান, হামলাকারীরা কাতিতে অবস্থিত প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বাসভবনে সরাসরি আঘাত হানে। ওই হামলায় জেনারেল সাদিও কামারা প্রাণ হারান। এর আগে শনিবার দেশটির বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় একযোগে হামলা চালায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো। কাতি ছাড়াও উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের একাধিক স্থানে সংঘর্ষ ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

রাজধানী বামাকো থেকে প্রায় পনেরো কিলোমিটার উত্তর–পশ্চিমে অবস্থিত কাতি শহরটি দেশটির অন্যতম কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে থাকা সামরিক এলাকা হিসেবে পরিচিত। সেখানে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আসিমি গোইতার অবস্থানও রয়েছে।

ঘটনার সময় কাতিতে আত্মঘাতী গাড়িবোমা ব্যবহার করা হয় বলে জানানো হয়েছে। হামলার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে এবং উচ্চ সতর্কতা জারি করে। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট আসিমি গোইতাকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং তিনি নিরাপদে আছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা যায়, হামলায় প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পরিবারের সদস্যরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী এবং দুই নাতি–নাতনি নিহত হন।

দেশটির একাধিক শহরে একই সময়ে হামলা চালানো হয়। বামাকো ছাড়াও উত্তরাঞ্চলের গাও ও কিদাল এবং মধ্যাঞ্চলের সেভারে শহরে গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। কিদাল শহরে পরবর্তী সময়েও ভারী গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, আল–কায়েদা সংশ্লিষ্ট জামাআত নুসরাত আল–ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন এবং তুয়ারেগ লিবারেশন ফ্রন্টের যোদ্ধারা যৌথভাবে বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালিয়েছে। যদিও এই গোষ্ঠীগুলো অতীতে পৃথকভাবে কার্যক্রম চালাত, সাম্প্রতিক সময়ে তারা কিছু ক্ষেত্রে সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলে নিরাপত্তা বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।

হামলার প্রধান ঘটনাগুলোর সারসংক্ষেপ

স্থানহামলার ধরনফলাফল
কাতি সামরিক শহরআত্মঘাতী গাড়িবোমা ও হামলাপ্রতিরক্ষামন্ত্রী নিহত, পরিবারের সদস্যরা হতাহত
বামাকো এলাকাসশস্ত্র হামলা ও সংঘর্ষনিরাপত্তা সতর্কতা জারি
গাওগোলাগুলি ও হামলাসংঘর্ষের ঘটনা
কিদালভারী গোলাগুলি ও বিস্ফোরণদীর্ঘস্থায়ী সংঘর্ষ পরিস্থিতি
সেভারেসশস্ত্র আক্রমণনিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা ব্যবস্থা

নিরাপত্তা বিশ্লেষক বুলামা বুকারতির মতে, সামনের সময়গুলোতে দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভূখণ্ড ও কৌশলগত স্থাপনার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষ আরও বাড়তে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, পূর্বে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এখন রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে কিছু ক্ষেত্রে একত্রিত হচ্ছে।

আফ্রিকান ইউনিয়ন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের আফ্রিকা বিষয়ক দপ্তর পৃথক বিবৃতিতে এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে।