প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ–২০২৫–এ চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা দ্রুত যোগদানের আদেশ জারির দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনের সড়কে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন। রোববার বেলা ১১টার পূর্বঘোষিত সময় থাকলেও আন্দোলনকারীরা নির্ধারিত সময়ের আগেই সড়কে অবস্থান নেন এবং স্লোগান দিয়ে কর্মসূচি শুরু করেন।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘ সময় পার হলেও তাঁদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি। এতে তারা চরম অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছেন বলে জানান। তাঁরা দ্রুত নিয়োগ আদেশ জারি করে চাকরিতে যোগদানের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান।
অবস্থান কর্মসূচির শুরুতে পুলিশ আন্দোলনকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে কিছু সময়ের জন্য কথা–কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং পুলিশি ব্যারিকেডের মধ্যেই আন্দোলনকারীরা সমাবেশ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন, যার মধ্যে ছিল—“দাবি মোদের একটাই, নিয়োগপত্র হাতে চাই” এবং “তুমি কে, আমি কে, শিক্ষক শিক্ষক”। এসব স্লোগানের মাধ্যমে তারা দ্রুত নিয়োগপত্র প্রদানের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।
আন্দোলনকারীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় তাদের জীবন-জীবিকা ও পারিবারিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অনেকেই পরিবার নিয়ে আর্থিক সংকটে পড়েছেন বলেও দাবি করেন।
গত ৯ জানুয়ারি পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের ৬১ জেলায় একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন মোট ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থী, যাদের মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়। পরে ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়, যেখানে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়।
ফল প্রকাশের পর আড়াই মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো নিয়োগপত্র না পাওয়ায় আন্দোলনকারীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে বলে তারা জানান। তারা বলছেন, দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হলে পরবর্তী সময়ে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে।
নিয়োগ প্রক্রিয়ার সংক্ষিপ্ত চিত্র
| ধাপ | তথ্য |
|---|---|
| লিখিত পরীক্ষার তারিখ | ৯ জানুয়ারি |
| অংশগ্রহণকারী জেলা | ৬১ জেলা (পার্বত্য তিন জেলা বাদে) |
| লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ | ৬৯,২৬৫ জন |
| মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত | ৬৯,২৬৫ জন |
| চূড়ান্ত ফল প্রকাশ | ৮ ফেব্রুয়ারি |
| প্রাথমিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত | ১৪,৩৮৪ জন |
| বর্তমান অবস্থা | নিয়োগপত্র জারি হয়নি |
আন্দোলনকারীদের দাবি, দ্রুত নিয়োগপত্র প্রদান না করা হলে শিক্ষাব্যবস্থায় জনবল সংকট আরও তীব্র হতে পারে এবং একই সঙ্গে প্রার্থীদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন অনিশ্চয়তায় পড়বে। তারা শান্তিপূর্ণভাবে দাবি আদায়ের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।