লক্ষ্মীপুরে বাগানের সুড়ঙ্গ ঘিরে চাঞ্চল্য প্রকাশ

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দালাল বাজার ইউনিয়নের পশ্চিম লক্ষ্মীপুর গ্রামে একটি পরিত্যক্ত জমিদার বাড়ির পাশের বাগানে মাটির নিচে তৈরি একটি সুড়ঙ্গকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এটি মাদক সেবন ও বিক্রির গোপন আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাগানের ভেতরে মাটি খুঁড়ে তৈরি করা এই সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ সম্পূর্ণভাবে বাঁশ ও গাছের ডালপালা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল। বাইরে থেকে দেখলে কোনোভাবেই এর অস্তিত্ব বোঝা যেত না। সুড়ঙ্গের ভেতরে ওঠানামার জন্য সিঁড়ির ব্যবস্থা ছিল এবং সেখানে বিছানা ও বালিশও পাওয়া গেছে, যা থেকে ধারণা করা হয়, সেখানে একসঙ্গে তিন থেকে চারজন অবস্থান করতে পারতেন।

স্থানীয়দের দাবি, সুজন সাহা নামের এক যুবক তাঁর সহযোগীদের নিয়ে এই সুড়ঙ্গটি তৈরি করেন এবং এটি নিয়মিত ব্যবহৃত হতো। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজেও সেখানে নিয়মিত মাদক সেবন করতেন। বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

পরবর্তীতে সুড়ঙ্গটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও উত্তেজনা তৈরি হয়। এরপর গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে সুড়ঙ্গটি ভেঙে ফেলা হয়।

সুজন সাহার স্ত্রী জানান, তাঁর স্বামী সুড়ঙ্গটি তৈরি করেছিলেন, তবে সেখানে মাদক সেবন হতো কি না সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।

এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাটি প্রথমে স্থানীয়দের কাছ থেকেই জানা যায়। তাঁর ভাষ্যমতে, সুড়ঙ্গটি তৈরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি মাদকাসক্ত ছিলেন এবং মাদক সেবনের সুবিধার্থেই বাগানের ভেতরে গোপনে এটি নির্মাণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার পুলিশ জানায়, খবর পাওয়ার পর তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে সুড়ঙ্গটি পরিদর্শন ও শনাক্ত করে। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে সেখানে মাদক সেবনের বিষয়টি উঠে আসে। পরবর্তীতে মাদক কার্যক্রম রোধে সুড়ঙ্গটি ধ্বংস করা হয়।

ঘটনার প্রধান তথ্যগুলো সংক্ষেপে নিচের সারণিতে উপস্থাপন করা হলো—

বিষয়তথ্য
স্থানপশ্চিম লক্ষ্মীপুর গ্রাম, দালাল বাজার ইউনিয়ন, লক্ষ্মীপুর সদর
স্থাপনাপরিত্যক্ত জমিদার বাড়ির পাশের বাগানে নির্মিত সুড়ঙ্গ
কাঠামোমাটির নিচে সুড়ঙ্গ, প্রবেশপথ বাঁশ ও ডালপালা দিয়ে আচ্ছাদিত
অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাওঠানামার সিঁড়ি, বিছানা ও বালিশ
ধারণক্ষমতাএকসঙ্গে ৩–৪ জন অবস্থান সম্ভব
অভিযোগমাদক সেবন ও বিক্রির গোপন আস্তানা
পরবর্তী পদক্ষেপস্থানীয়দের উদ্যোগে সুড়ঙ্গ ভাঙা হয় এবং পুলিশ পরিদর্শন করে

স্থানীয়দের ভাষ্য ও প্রশাসনের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সুড়ঙ্গটি দীর্ঘদিন ধরে গোপন কার্যক্রমের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পুরো বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।