আজ ওয়াশিংটনে ইসরাইল-লেবানন দ্বিতীয় দফা বৈঠক শুরু হচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে দ্বিতীয় দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। চলমান পরিস্থিতিতে ১০ দিনের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো এবং তা টেকসই করার উদ্দেশ্যেই এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এই কূটনৈতিক উদ্যোগকে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন জানিয়েছেন, এই আলোচনার প্রধান ভিত্তি হলো ইসরাইলি সামরিক আগ্রাসন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা, লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার এবং বন্দিবিনিময় প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া। পাশাপাশি সীমান্ত পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে আন্তর্জাতিক সীমান্ত অঞ্চলে লেবানন সেনাবাহিনীর মোতায়েনের বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।

এ ছাড়া যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রম শুরু করার বিষয়েও বৈরুত গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে বিদ্যমান অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিকে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের দিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য এ আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা।

এর আগে গত ১৬ এপ্রিল প্রথম দফার আলোচনা শেষে দুই দেশের মধ্যে ১০ দিনের একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। ওই দিন বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী রাত ৩টা থেকে যুদ্ধবিরতি শুরু হয়। সেই যুদ্ধবিরতির সময়কালেই উভয় পক্ষ নতুন করে আলোচনায় বসতে সম্মত হয়, যার ধারাবাহিকতায় আজকের দ্বিতীয় দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

নিচে আলোচনার প্রধান ধাপগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত সময়রেখা তুলে ধরা হলো—

তারিখঘটনা
১৬ এপ্রিলপ্রথম দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত
১৬ এপ্রিল (রাত ৩টা)১০ দিনের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর
২৩ এপ্রিলওয়াশিংটনে দ্বিতীয় দফা বৈঠক শুরু

বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠকটি মূলত যুদ্ধবিরতিকে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোর দিকে নেওয়ার একটি প্রচেষ্টা। বিশেষ করে সীমান্ত নিরাপত্তা, সেনা প্রত্যাহার এবং বন্দিবিনিময়—এই তিনটি বিষয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

বর্তমান বৈঠকে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিরা রাষ্ট্রদূত পর্যায়ের বলে জানানো হয়েছে। এ ধরনের কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে উভয় পক্ষের মধ্যে আস্থা তৈরি এবং পরবর্তী ধাপে রাজনৈতিক সমঝোতার পথ প্রশস্ত করার চেষ্টা চলছে।