প্রচারণা শেষ, কাল প্রথম দফা ভোট

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে বৃহস্পতিবার। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টায় এই দফার নির্বাচনী প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে।

প্রথম দফায় উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গ মিলিয়ে রাজ্যের মোট ষোলো জেলার একশ বায়ান্নটি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। ভোট শুরু হবে সকাল সাতটায় এবং চলবে একটানা সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত।

প্রচারণার শেষ দিনেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম ছিল ব্যাপক। আসানসোল দক্ষিণ আসনে বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পালের সমর্থনে রোড শো করেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। কুলটি আসনে বিজেপি প্রার্থী পোদ্দারের সমর্থনে নির্বাচনী সভায় অংশ নেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী দলীয় কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে শেষ মুহূর্তের জনসংযোগ করেন। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও বিভিন্ন নির্বাচনী কর্মসূচিতে অংশ নেন।

তবে শেষ দিনের প্রচারণায় একাধিক বিক্ষিপ্ত ঘটনার খবর পাওয়া যায়। পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতন এলাকায় বিজেপি প্রার্থী অজিত কুমার জানার ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এতে তিনি আহত হন এবং একটি হাত ভেঙে যায় বলে জানা যায়। তাকে মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় তার গাড়ি ও একাধিক মোটরসাইকেল ভাঙচুর হয় এবং কয়েকজন কর্মী-সমর্থক আহত হন। ঘটনাটির জন্য তৃণমূল সমর্থিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে।

মুর্শিদাবাদের নওদা বিধানসভা আসনে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী হুমায়ুন কবীরের প্রচার ঘিরেও উত্তেজনা তৈরি হয়। পুলিশের বিরুদ্ধে প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে, যার ফলে প্রার্থীর সঙ্গে পুলিশের বাগবিতণ্ডা ঘটে।

এছাড়া নন্দীগ্রামে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগে তৃণমূলের স্থানীয় নেতা হাবিবুল রহমান (নান্টু) কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি নন্দীগ্রামের মোহাম্মদপুর পঞ্চায়েতের প্রধান হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।

প্রথম দফায় মোট প্রায় তিন কোটি ষাট লাখ ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার প্রায় এক কোটি চুরাশি লাখ, নারী ভোটার প্রায় এক কোটি পঁচাত্তর লাখ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন চারশ পঁয়ষট্টি জন।

নির্বাচনে মোট এক হাজার চারশ আটাত্তর জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ হবে। তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপি, কংগ্রেস, সিপিআই(এম), ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট, আম জনতা উন্নয়ন পার্টিসহ বিভিন্ন দল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে। অধিকাংশ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে বলে নির্বাচনী পরিবেশে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

প্রথম দফার নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার সারসংক্ষেপ নিচে দেওয়া হলো—

বিষয়সংখ্যা
মোট আসন১৫২
মোট ভোটার৩,৬০,০০,০০০
পুরুষ ভোটার১,৮৪,০০,০০০
নারী ভোটার১,৭৫,০০,০০০
তৃতীয় লিঙ্গ ভোটার৪৬৫
প্রার্থী সংখ্যা১,৪৭৮
ভোটকেন্দ্র৪৪,৩৭৮
কেন্দ্রীয় বাহিনী২,৪০০ কোম্পানি
দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল২,১৯৩

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোট প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ রাখতে প্রায় দুই লাখ চল্লিশ হাজার কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, যা রাজ্যের নির্বাচনী ইতিহাসে সর্বোচ্চ। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ভেতরে ও বাইরে একাধিক ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে সরাসরি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির মাধ্যমে সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা পাঠানোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

এছাড়া দুই হাজার একশ তিরানব্বইটি দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে যেকোনো অনিয়ম বা অশান্তির ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব বা ভুয়া তথ্য ছড়ানো ঠেকাতেও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, দ্বিতীয় দফার ভোট অনুষ্ঠিত হবে উনত্রিশ এপ্রিল এবং ভোট গণনা অনুষ্ঠিত হবে চার মে।