বাংলাদেশের বোলিংয়ে কিউই বিপর্যয়

মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে দারুণ নিয়ন্ত্রিত বোলিং প্রদর্শন করে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে বাংলাদেশ। ম্যাচের শুরু থেকেই পেসারদের ধারাবাহিক গতি, লাইন ও লেন্থের নিখুঁত প্রয়োগে চাপে পড়ে যায় নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপ। বিশেষ করে নতুন বলে বল হাতে তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম এবং নাহিদ রানা প্রতিপক্ষকে স্বস্তিতে খেলতে দেননি।

সোমবার (২০ এপ্রিল) টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক টম ল্যাথাম। তবে শুরু থেকেই বাংলাদেশের বোলাররা রান তোলার গতি আটকে দেন। বল সুইং করা এবং পিচ থেকে সামান্য ভিন্নতা পাওয়ায় ব্যাটাররা বড় শট খেলতে ব্যর্থ হন। ফলে নিয়মিত বিরতিতে ডট বলের চাপ বাড়তে থাকে সফরকারী দলের ওপর।

ম্যাচের প্রথম উইকেটের পতন ঘটে ২৫ রানে। ২৬ বলে ১৩ রান করা হেনরি নিকোলসকে আউট করেন নাহিদ রানা। দ্রুত গতির শর্ট বল ও নিখুঁত লেন্থে তাকে বিভ্রান্ত করে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন তিনি। এরপর ক্রিজে আসেন উইল ইয়ং। তবে তিনিও চাপ সামাল দিতে পারেননি। মাত্র ৭ বলে ২ রান করে নাহিদ রানার দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন তিনি।

প্রথম ছয় ওভারের মধ্যেই দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারিয়ে বড় ধাক্কা খায় নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশের পেস আক্রমণের ধারাবাহিকতায় ব্যাটাররা স্বাভাবিক ছন্দ খুঁজে পাননি। তাসকিন ও শরিফুল শুরুতে উইকেট না পেলেও তাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং প্রতিপক্ষের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করে।

দ্বাদশ ওভার শেষে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২ উইকেটে ৩১ রান। এই সময়ে বাংলাদেশের ফিল্ডিং সাজানো ছিল অত্যন্ত শৃঙ্খলিত, যা ব্যাটারদের জন্য রান বের করাকে আরও কঠিন করে তোলে।

নিচে প্রথম ১২ ওভারের গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান উপস্থাপন করা হলো—

বিষয়বিবরণ
ভেন্যুমিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম
টস জয়ী দলনিউজিল্যান্ড
প্রথমে ব্যাটিংনিউজিল্যান্ড
প্রথম উইকেটহেনরি নিকোলস (১৩ রান, ২৬ বল)
দ্বিতীয় উইকেটউইল ইয়ং (২ রান, ৭ বল)
প্রধান সফল বোলারনাহিদ রানা (২ উইকেট)
১২ ওভার শেষে স্কোর২ উইকেটে ৩১ রান

বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল ধারাবাহিকতা ও নিয়ন্ত্রিত আক্রমণ। নতুন বলে সঠিক জায়গায় বল ফেলে তারা প্রতিপক্ষকে রান তুলতে দেননি। বিশেষ করে প্রথম দিকের চাপ ম্যাচের গতিপথ বাংলাদেশের অনুকূলে নিয়ে আসে।

এই অবস্থায় ম্যাচের পরবর্তী ধাপে নিউজিল্যান্ডের মিডল অর্ডার ব্যাটাররা কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারে, তা নির্ভর করবে বাংলাদেশের বোলাররা একই ছন্দ ধরে রাখতে পারেন কি না তার ওপর। প্রাথমিক পর্যায়ের এই নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্স বাংলাদেশ দলকে ম্যাচে শক্ত অবস্থানে রেখেছে এবং প্রতিপক্ষের ওপর চাপ বজায় রেখেছে।