সংসদ কেনাকাটা অনিয়ম তদন্তে কমিটি, বিল স্থগিত

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ক্রয়সংক্রান্ত কোনো বিল পরিশোধ করা হবে না বলে জানানো হয়েছে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন সংসদ সচিবালয়ের পরিচালক (গণসংযোগ) মো. মনির হোসেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা এবং বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে “সংসদের কেনাকাটায় হরিলুট” শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংসদ সচিবালয়ের ক্রয় কার্যক্রম নিয়ে যে অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়েছে, তা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে সংসদের পক্ষ থেকে অচিরেই একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়া না পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কেনাকাটার কোনো ধরনের অর্থ পরিশোধ করা হবে না।

প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, সংসদ সচিবালয়ের সাম্প্রতিক একটি কেনাকাটায় বাজারদরের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি দামে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ক্রয় করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এর মধ্যে ছবি ধারণের যন্ত্র, আলোক সংবেদনশীল লেন্স, সংরক্ষণ কার্ড, বিদ্যুৎ সরবরাহ উপকরণ এবং আলোক ঝলক যন্ত্রসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত ছিল।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মোট ক্রয়মূল্য দাঁড়ায় ৫৮ লাখ ৪৪ হাজার ১৩০ টাকা, অথচ এসব পণ্যের সম্ভাব্য বাজারমূল্য ২০ লাখ টাকার কম বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া দরপত্রে নির্ধারিত ব্র্যান্ড অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ না হয়ে কিছু ক্ষেত্রে ভিন্ন ব্র্যান্ডের পণ্য সরবরাহের অভিযোগও রয়েছে। নির্ধারিত ৩০ দিনের পরিবর্তে ১৯ দিনের মধ্যে সরবরাহ সম্পন্ন হওয়ার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

কেনাকাটা ও সময়রেখা

বিষয়তথ্য
সংসদের যাত্রা শুরু১২ মার্চ (ত্রয়োদশ সংসদ)
কার্যাদেশ প্রদান২৫ মার্চ
সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানসেফ ট্রেডার্স
সরবরাহের তারিখ১৫ এপ্রিল
মোট ক্রয়মূল্য৫৮,৪৪,১৩০ টাকা
অভিযোগ অনুযায়ী বাজারমূল্য২০ লাখ টাকার কম
সরবরাহ সময়কাল৩০ দিনের পরিবর্তে ১৯ দিন

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, এই কেনাকাটায় সাবেক সংসদ সচিব কানিজ মাওলার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংসদ অধিবেশনেও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয় বলে জানা গেছে।

সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।