পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় এবার কোরবানির পশু কেনাবেচার জন্য মোট ২৬টি অস্থায়ী হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। নগরবাসীর সুবিধা নিশ্চিত করা, যানজট নিয়ন্ত্রণ করা এবং নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল বাণিজ্য পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যে এসব নির্ধারিত স্থানে হাটগুলো স্থাপন করা হবে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৩টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় আরও ১৩টি হাট বসবে। প্রতিটি হাটে প্রশাসনিক তদারকি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি, ভ্রাম্যমাণ আদালত, পশু চিকিৎসা দল এবং সিটি করপোরেশনের পর্যবেক্ষণ দল সক্রিয় থাকবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে আলাদা ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে হাটগুলোর ইজারা প্রদানের জন্য গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ইজারাদার নিয়োগ সম্পন্ন হলে হাট পরিচালনার দায়িত্ব তাদের ওপর ন্যস্ত করা হবে, তবে সার্বিক নিয়ন্ত্রণ থাকবে সিটি করপোরেশনের হাতে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন হাটগুলো নদীর পাড়, খালি জায়গা, ক্লাব সংলগ্ন এলাকা, ট্রাকস্ট্যান্ড এবং আবাসিক এলাকার নির্ধারিত খোলা স্থানে বসানো হবে। এর মধ্যে পোস্তগোলা শ্মশানঘাটের পশ্চিম পাশের এলাকা, শাহজাহানপুর মৈত্রী সংঘ ক্লাব সংলগ্ন স্থান, রহমতগঞ্জ ক্লাব এলাকা, আফতাবনগরের বিভিন্ন ব্লকের খালি জায়গা, জুরাইন রেলক্রসিং সংলগ্ন রাস্তার অংশসহ মোট ১৩টি স্থান রয়েছে।
অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় গাবতলী স্থায়ী হাটের পাশাপাশি আরও ১২টি অস্থায়ী হাট বসবে। এর মধ্যে মিরপুর, উত্তরা, বাড্ডা, খিলক্ষেত, কালশী বালুর মাঠ, বছিলা সংলগ্ন রাস্তা এবং বিভিন্ন আবাসিক এলাকার খালি জায়গা উল্লেখযোগ্য।
সিটি করপোরেশন সূত্র বলছে, এসব হাটে ঈদের দিনসহ মোট পাঁচ দিন পশু কেনাবেচা চলবে। তবে পূর্ববর্তী বছরগুলোর অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, কিছু হাটে নির্ধারিত সময়ের আগেই পশু বাণিজ্য শুরু হয়ে যায়। এ ধরনের অনিয়ম রোধে এবার কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধভাবে রাস্তা দখল করে হাট বসানো প্রতিরোধেও বিশেষ অভিযান চালানো হবে।
হাট ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও সেবার একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র নিচে দেওয়া হলো—
| সিটি করপোরেশন | হাটের সংখ্যা | উল্লেখযোগ্য হাটের এলাকা |
|---|---|---|
| ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন | ১৩টি | পোস্তগোলা, আফতাবনগর, জুরাইন, বনশ্রী, গোলাপবাগ |
| ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন | ১৩টি | গাবতলী, মিরপুর, উত্তরা, বাড্ডা, খিলক্ষেত |
সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিটি হাটে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে।
সব মিলিয়ে রাজধানীতে আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে কোরবানির পশুর বড় বাজার গড়ে উঠতে যাচ্ছে। সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও ভোগান্তিমুক্ত হাট পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রত্যাশা করছে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ।
