মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলায় এক তরুণকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে নির্যাতনের পর মৃত্যু হয়েছে—এমন অভিযোগে পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জোরালো হচ্ছে।
নিহত যুবকের নাম রাকিব (২২)। তিনি উপজেলার শিমুলিয়া গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাকিব দীর্ঘদিন ধরে বাউশিয়া ইউনিয়নের দড়ি বাউশিয়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং স্থানীয় একটি শিল্পকারখানায় শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কাজের সূত্রে তিনি এলাকায় বেশ পরিচিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক বারোটার দিকে তিনজন অজ্ঞাত যুবক একটি যানবাহনে করে রাকিবের বাসায় আসে। তারা নিজেদের পরিচিত বলে দাবি করে এবং ‘পিয়াস’ নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করানোর কথা বলে তাকে সঙ্গে নিয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে আপত্তি জানালেও তারা আশ্বস্ত করে যে সাক্ষাৎ শেষে রাকিবকে আবার বাসায় পৌঁছে দেওয়া হবে। কিন্তু এরপর সারারাত পেরিয়ে গেলেও রাকিব আর ফিরে আসেননি এবং তার সঙ্গে যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
পরদিন ভোরে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বালুরচর এলাকার নদীর পাড়ে অচেতন অবস্থায় এক যুবককে পড়ে থাকতে দেখে তাৎক্ষণিকভাবে খবর দেন। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে রাকিবকে শনাক্ত করেন। স্বজনদের দাবি, তার শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন ছিল এবং তিনি কথা বলতে পারছিলেন না। দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে পথেই তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রাকিবের মা রুমি বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তিনি সারারাত ছেলের খোঁজ করেও পাননি। সকালে খবর পেয়ে গিয়ে দেখেন, তার ছেলে মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে আছে। মৃত্যুর আগে রাকিব শুধু জানিয়েছিল তাকে মারধর করা হয়েছে, এর বেশি কিছু বলতে পারেনি।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত ‘পিয়াস’ নামের ব্যক্তি অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হচ্ছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, রাকিব ও তার মামার সঙ্গে তার পূর্বপরিচয় ছিল এবং কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার নাম ব্যবহার করে এই ঘটনা ঘটাতে পারে। তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে আনার আগেই রাকিবের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। তার শরীরে বড় ধরনের বাহ্যিক আঘাত স্পষ্ট না থাকলেও প্রাথমিকভাবে শ্বাসরোধজনিত কারণে মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত কারণ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের পর জানা যাবে।
গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তিনজন যুবক তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। তাদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাক্রমের সংক্ষিপ্ত চিত্র নিচে উপস্থাপন করা হলো—
| সময়কাল | ঘটনা |
|---|---|
| রোববার রাত প্রায় বারোটা | তিনজন যুবক রাকিবকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায় |
| রাতভর | রাকিব নিখোঁজ, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন |
| সোমবার ভোর | বালুরচর এলাকায় নদীর পাড়ে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার |
| সকাল | হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু ঘোষণা |
এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
