রামগড়ে বিদ্যালয়ে আগুনে ছয় কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত

খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় উপজেলার পাতাছড়া ইউনিয়নের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অগ্নিকাণ্ডে ছয়টি কক্ষ সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় কলাবাড়ী উচ্চবিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। এতে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও শ্রেণিকক্ষগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন দ্রুত পাশের কক্ষগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। আগুন ছড়িয়ে পড়ার ফলে একে একে একাধিক কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ভেতরের আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন সামগ্রী পুড়ে যায়। ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন এবং পরে অগ্নিনির্বাপণ ও নাগরিক প্রতিরক্ষা সেবা দপ্তরকে খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে রামগড় থেকে দুইটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টার প্রচেষ্টার পর আগুন সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে আসে। দীর্ঘ সময়ের চেষ্টার ফলে আশপাশের অন্যান্য স্থাপনায় আগুন ছড়িয়ে পড়া থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল কাদের একটি জাতীয় দৈনিককে জানান, অগ্নিকাণ্ডে প্রধান শিক্ষকের কক্ষসহ একাধিক শ্রেণিকক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যালয়ের আসবাবপত্র, শিক্ষাসামগ্রী এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে পুড়ে গেছে। এতে বিদ্যালয়ের দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ ও পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

অগ্নিনির্বাপণ ও নাগরিক প্রতিরক্ষা সেবা দপ্তরের রামগড় কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিশ্বান্ত বড়ুয়া জানান, আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। একই সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলমান রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি কাজী শামীম জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও বিদ্যালয়ের অবকাঠামোতে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। তিনি আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে এবং পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে ২০২২ সালে রামগড় উপজেলার প্রত্যন্ত কলাবাড়ী এলাকায় কলাবাড়ী উচ্চবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। তুলনামূলক নতুন এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিকাণ্ডের ফলে ছয়টি কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদানে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

নিচে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো—

বিষয়বিবরণ
ক্ষতিগ্রস্ত কক্ষছয়টি কক্ষ (প্রশাসনিক ও শ্রেণিকক্ষসহ)
ক্ষতিগ্রস্ত সামগ্রীআসবাবপত্র, শিক্ষাসামগ্রী, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র
আগুন নিয়ন্ত্রণ সময়প্রায় এক ঘণ্টা
আগুন নিয়ন্ত্রণকারী দলদুইটি অগ্নিনির্বাপণ ও নাগরিক প্রতিরক্ষা সেবা ইউনিট

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে জানা গেছে।