চাঁদাবাজি মামলায় তিনজন রিমান্ডে

রাজধানীর একটি কিডনি রোগ ও ইউরোলজি চিকিৎসা কেন্দ্রে চাঁদা দাবির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় প্রধান অভিযুক্ত মঈন উদ্দিনসহ তিনজনকে তিন দিন করে রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া অন্যান্যদেরও এর আগে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর হাকিম জামসেদ আলম তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পর শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন, অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন জানান। উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত তিন আসামির প্রত্যেকের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ডে পাঠানো তিন আসামি হলেন—মঈন উদ্দিন, এম বি স্বপন কাজী এবং মো. শাওন হোসেন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের অংশ হয়ে চিকিৎসা কেন্দ্রটির কাছে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা দাবি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছিল।

অভিযুক্তদের পরিচয় ও রিমান্ড তথ্য

নামঅবস্থানরিমান্ড মেয়াদ
মঈন উদ্দিনপ্রধান অভিযুক্ত৩ দিন
এম বি স্বপন কাজীসহযোগী অভিযুক্ত৩ দিন
মো. শাওন হোসেনসহযোগী অভিযুক্ত৩ দিন

মামলার নথি অনুযায়ী, রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকায় অবস্থিত ওই চিকিৎসা কেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। অভিযোগে বলা হয়, চাঁদা না দিলে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করা হবে—এমন হুমকিও দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী চিকিৎসা কেন্দ্রের অপারেশন থিয়েটার ইনচার্জ গত ১১ এপ্রিল শেরেবাংলা নগর থানায় এই মামলা দায়ের করেন।

এজাহারে আরও উল্লেখ রয়েছে, অভিযুক্তরা শুধু অর্থ দাবি করেই থেমে থাকেনি, বরং একাধিকবার ভুক্তভোগীকে ব্যক্তিগতভাবে হুমকি দেয় এবং তার পরিবারের সদস্যদেরও ভয়ভীতি দেখায়। ঘটনার দিন সকালে তারা ভুক্তভোগীর বাসার সামনে গিয়ে চাপ সৃষ্টি করে এবং দ্রুত অর্থ প্রদানের জন্য হুমকি দেয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

পরবর্তীতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় যখন অভিযুক্তরা একত্রিত হয়ে প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে জড়ো করে চিকিৎসা কেন্দ্রের সামনে অবস্থান নেয়। সেখানে তারা উচ্চস্বরে স্লোগান দেয়, অশালীন আচরণ করে এবং প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করার চেষ্টা চালায়। এতে আশপাশের এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয় এবং রোগী ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং কয়েকজনকে আটক করে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কিছুজনকে এর আগে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। নতুন করে গ্রেফতার হওয়া তিনজনকে রিমান্ডে নেওয়ার মাধ্যমে পুরো চক্রের কার্যক্রম, অর্থনৈতিক লেনদেনের উৎস এবং সম্ভাব্য অন্যান্য সহযোগীদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই চাঁদাবাজি চক্রের সংগঠিত কাঠামো, তাদের প্রভাব বিস্তার কৌশল এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। পুলিশ মনে করছে, এ ঘটনার পেছনে আরও বড় একটি নেটওয়ার্ক থাকতে পারে, যা শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।