যুক্তরাষ্ট্র ইরান অর্থ মুক্তিতে সম্মত

কাতারসহ বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ইরানের জব্দকৃত অর্থ ছাড়তে যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হয়েছে বলে জানা গেছে। পাকিস্তানে চলমান দুই দেশের আলোচনার আগে এই সিদ্ধান্তকে তেহরান ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছে। তবে এ বিষয়ে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি, একইভাবে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

একটি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জব্দকৃত অর্থ মুক্ত করার সিদ্ধান্তটি সরাসরি হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়টির সঙ্গে সম্পর্কিত। ধারণা করা হচ্ছে, চলমান আলোচনায় এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র কত পরিমাণ অর্থ ছাড়তে সম্মত হয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

আরেকটি ইরানি সূত্রের দাবি অনুযায়ী, প্রায় ৬০০ কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ ছাড়তে যুক্তরাষ্ট্র রাজি হয়েছে, যা কাতারের ব্যাংকগুলোতে সংরক্ষিত ছিল। এই অর্থ মূলত ইরানের তেল বিক্রির আয় থেকে সৃষ্ট, যা দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যাংকিং ব্যবস্থায় জমা ছিল এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার কারণে সেখানে আটকে যায়।

জব্দকৃত অর্থের প্রেক্ষাপট ও গুরুত্বপূর্ণ ধাপসমূহ

নিচের সারণিতে ইরানের জব্দকৃত অর্থ সংক্রান্ত প্রধান ঘটনাগুলোর ধারাবাহিকতা উপস্থাপন করা হলো—

সময়কালঘটনা
২০১৮যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল বিক্রির অর্থ জব্দ করে, যা দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যাংকে ছিল
২০১৮ পরবর্তী সময়পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের ফলে অর্থ আটকে থাকে এবং আন্তর্জাতিক পারমাণবিক চুক্তি কার্যত বাতিল হয়
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরকাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বন্দি বিনিময় চুক্তি সম্পন্ন
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরপাঁচজন মার্কিন নাগরিকের বিনিময়ে পাঁচজন ইরানি মুক্তি পান; অর্থ কাতারের ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়
২০২৩ সালের পরবর্তী সময়যুক্তরাষ্ট্র জানায়, অর্থ শুধুমাত্র মানবিক কাজে ব্যবহার করা যাবে এবং তত্ত্বাবধান থাকবে মার্কিন অর্থ বিভাগের অধীনে
পরবর্তী সময়নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিস্থিতির পর অর্থ পুনরায় সীমিত বা জব্দ অবস্থায় থাকে
বর্তমান সময়যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ ছাড়ার বিষয়ে সম্মতির তথ্য প্রকাশিত হয় (আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অপেক্ষমাণ)

চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের বন্দি বিনিময় প্রক্রিয়ায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একে অপরের পাঁচজন করে বন্দিকে মুক্তি দেয়। একই সময় জব্দকৃত অর্থ কাতারের ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র শর্ত আরোপ করে যে এই অর্থ কেবল মানবিক খাতে—যেমন খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও কৃষিপণ্য কেনার জন্য ব্যবহার করা যাবে। পুরো প্রক্রিয়াটি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগের তত্ত্বাবধানে রাখার কথা বলা হয়।

বর্তমান আলোচনার প্রেক্ষাপটে এই অর্থ ছাড়ার সিদ্ধান্তকে দুই দেশের চলমান কূটনৈতিক আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এখনো যুক্তরাষ্ট্র বা সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষ থেকে চূড়ান্ত ও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।